খুলনা | শনিবার | ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

পুরনো পথেই হাঁটছে প্রশাসন

|
১২:১৫ এ.এম | ২৬ অগাস্ট ২০২৫


গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। ছাত্র-জনতার প্রবল আন্দোলনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল স্বৈরাচারী সরকার। মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এই অভ্যুত্থান কেবল একটি সরকারের পতন ঘটাবে না, বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে বিশেষ করে প্রশাসনের দীর্ঘদিনের জমে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মুলোৎপাটন করবে। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রত্যাশা পূরণের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে মনে হচ্ছে, পুরোনো নষ্ট প্রশাসনই নতুন মোড়কে বহাল আছে। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, অন্তর্বর্তী সরকার কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলেও প্রশাসনের সামগ্রিক চিত্র হতাশাজনক। দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার যেন আগের মতোই বহাল রয়েছে, যা গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যাহত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি মূলত পূর্ববর্তী নষ্ট প্রশাসনের ধারাবাহিকতা। বিতর্কিত কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং নতুন পদোন্নতি দেওয়া হলেও প্রশাসনের মূল কাঠামো ও মানসিকতার পরিবর্তন হয়নি। জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগে আর্থিক লেনদেন ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে, যা একটি স্বচ্ছ প্রশাসনের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমনকি, সম্পদবিবরণী নেওয়ার মতো প্রশংসিত উদ্যোগও যাচাই-বাছাইয়ের অভাবে তার কার্যকারিতা হারিয়েছে। প্রশাসনের অভ্যন্তরে আন্তঃক্যাডার দ্ব›দ্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। পদোন্নতি বিধিমালা নিয়ে প্রশাসন ক্যাডার এবং অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ ও বাগ্যুদ্ধ হয়েছে, যা প্রশাসনের মর্যাদাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন করেছে। এই ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল যে একটি স্থিতিশীল ও দক্ষ প্রশাসনের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর, তা বলাই বাহুল্য।
প্রশাসনকে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য স্বাভাবিকভাবেই একটি মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি। বরং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন করে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি চাকুরি অধ্যাদেশ নিয়ে কর্মচারী আন্দোলন এবং পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের অসন্তোষ প্রমাণ করে, প্রশাসন পরিচালনায় কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা দিকনির্দেশনা নেই। যদি এই ধারা চলতে থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে মনে করি আমরা। ভুলে গেলে চলবে না, একটি কার্যকর এবং নিরপেক্ষ প্রশাসন ছাড়া কোনো দেশই টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারে না। জনগণের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে সরকার তাই অবিলম্বে একটি সুশৃঙ্খল ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিতের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

্রিন্ট

আরও সংবদ