খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১২ মার্চ ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

রোগীদের খাবার নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষা বাইরে, বাড়তি খরচ ও ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
১২:৫৯ এ.এম | ১২ মার্চ ২০২৬


খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে অনেক রোগীকেই বাইরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বাড়তি খরচ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্ন আয়ের রোগীরা। হাসপাতালের খাবার ও সেবার মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।
তেরখাদা উপজেলার বাসিন্দা দিদার শেখ তার ৭৫ বছর বয়সী অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসা করাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, কর্তব্যরত চিকিৎসক কিছু মেডিকেল টেস্ট দেন। কিন্তু সেগুলো হাসপাতালের ভেতরে না করিয়ে একটি কাগজে বেসরকারি একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ও প্রতিনিধির ফোন নম্বর লিখে দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে সেখানেই পরীক্ষা করাতে হয়।
বটিয়াঘাটা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী দীপংকর দাস বলেন, তিনি দুইদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তার স্ত্রী ও মেয়ে বাড়ি গেছেন খাবার আনতে। তিনি জানান, চিকিৎসকের দেওয়া পরীক্ষা বাইরে করাতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সকালে রুটি ও কলা দেওয়া হলেও দুপুর ও রাতে মাছ বা মাংস দেওয়া হয় অল্প পরিমাণে। এতে পেট ভরে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
খালিশপুর এলাকার বাসিন্দা মিনা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোমর ও পায়ের ব্যথায় ভুগছেন। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ খাওয়ার পরও সমস্যা না কমায় তিন মাস পর আবার হাসপাতালে এসেছেন। তাকে কিছু পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা করাতে চাইলেও চিকিৎসকের সহকারী বাইরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, প্যাথলজি বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব বা পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই বলে রোগীদের বাইরে পাঠানো হয়। এতে হাসপাতালকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে রোগীদের খাবার নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি রোগীর খাবারের জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ থাকলেও মানসম্মত খাবার দেওয়া হয় না এবং অনেক সময় খাবারের পরিমাণও কম থাকে।
তবে রান্নাঘরের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খাবার কম দেওয়া বা বাইরে বিক্রি করার কোনো ঘটনা ঘটে না। অনেক সময় বেঁচে যাওয়া খাবার হাসপাতালের কর্মচারীরা নিয়ে যান।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ কাজী মোঃ আইনুল ইসলাম বলেন, খাবার সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। 
তিনি আরও জানান, হাসপাতাল এলাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা অনেক সময় পালিয়ে যায়। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ সতর্ক রয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ