খুলনা | শনিবার | ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

‘বন্ধু না প্রতিদ্বন্দ্বী ভুল সম্পর্ককে বিদায় দিন’

জয়া মাহবুব |
১২:৫৪ এ.এম | ২৮ অগাস্ট ২০২৫


আমাদের জীবনে বন্ধুত্ব একটি শক্তিশালী আশ্রয়। বন্ধু হলো সেই মানুষ যারা আমাদের আনন্দে আনন্দিত হয়, দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ায় এবং জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের উৎসাহিত করে। কিন্তু সব সম্পর্ক সমান নয়। অনেক সময় আমরা এমন কিছু মানুষকে বন্ধু ভাবি, যারা আসলে আমাদের সাফল্যকে ঈর্ষা করে বা ব্যর্থতায় আনন্দ খুঁজে। এই ধরনের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপ এবং হতাশা তৈরি করতে পারে। তাই বুঝতে হবে-আপনার চারপাশের মানুষ আসলেই বন্ধু নাকি প্রতিদ্বন্দ্বী?
মুখোশের আড়ালে প্রতিদ্বন্দ্বী : যারা সত্যিকারের বন্ধু নয়, তারা প্রায়শই আপনার ব্যর্থতায় আনন্দ খুঁজে এবং সাফল্যে নীরব থাকে। তাদের মন্তব্য অনেক সময় ‘সাধারণ পরামর্শ’ বা রসিকতার আড়ালে লুকানো ব্যঙ্গ হয়। যেমন......
“তুমি তো সবসময়ই ভালো মার্কস পাও, সবার কপাল এত ভালো হয় না।”
“প্রেজেন্টেশন ভালো হয়েছে, যদিও তুমি তো খুব ব্যস্ত ছিলে, সময়ই কই ছিল প্রস্তুতির!”
“তুমি প্রমোশন পেয়েছো? অফিস পলিটিক্স বোঝো বটে!”
“তুমি তো কনফিডেন্ট, আমরা তোমার মত পারিনা।”
এগুলো আসলে প্রশংসা নয়; বরং কৃতিত্বকে ছোট করার চেষ্টা। তারা এমনভাবে কথা বলে যেন আপনার সাফল্য ‘সাধারণ’ বা ‘কাকতালীয়’ মনে হয়।
প্রতিটি পদক্ষেপে প্রতিযোগিতা : হিংসাত্মক বন্ধুরা প্রায়শই প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দেখায়। আপনি যদি জিমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তারা সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের ‘ফিটনেস গুরু’ দাবি করবে-“ওমুক ডায়েট করো না কেন?” বা “তুমি ঠিকভাবে করছো না, আমি এর চেয়ে অনেক ভালো করি।”
আপনি যদি নতুন ব্যবসা শুরু করেন, তারা বলবে “আমি তো অনেক আগে থেকেই ব্যবসা করছি, তুমি অনেক দেরি করে ফেলেছো।”
আপনি যদি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতন হন, তারা হাসবে এবং বলবে “এইসব তোমার মতো দুর্বল মানুষের জন্য।”
আপনি যদি নতুন কিছু শিখেন বা নিজেকে উন্নত করতে কাজ শুরু করেন, তারা মন্তব্য করবে “এগুলো কেউ করে? সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছু না।”
এই সব আচরণ প্রমাণ করে, তারা আপনার উন্নতিতে আনন্দ পায় না; বরং অস্বস্তিতে পড়ে এবং আপনাকে ছাপিয়ে যাওয়াই তাদের লক্ষ্য।
একমুখী সম্পর্কের বোঝা : প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক বন্ধুরা সাধারণত তখনই আসে যখন তাদের প্রয়োজন হয়। আপনার কঠিন সময়ে তারা পাশে থাকে না। তারা আপনার সাফল্যকে কখনো সোজাসুজি স্বীকৃতি দেয় না। সম্পর্ক একমুখী হয়ে গেলে, প্রতিবার তাদের সঙ্গে সময় কাটালে আপনি ক্লান্তি, বিষণœতা এবং হতাশা অনুভব করবেন। মনে রাখবেন-যারা অন্যের কথা আপনার কাছে বলে, তারা আপনার কথাও অন্যদের কাছে বলে দেবে। যারা সামনাসামনি খোঁচা দেয়, তারা পিছনেও একই কাজ করবে। এই ধরনের সম্পর্ক মানসিক শান্তি নষ্ট করে এবং আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানে।
আসল বন্ধুত্বের পরিচয়, সত্যিকারের বন্ধু হলো সেই মানুষ যারা: আপনার সাফল্যে আনন্দিত হয়, কিন্তু খারাপ সময়ে আপনাকে ছোট করে না। প্রতিনিয়ত আপনার সক্ষমতা প্রশ্ন করে না। আপনার উন্নতি দেখে অনুপ্রাণিত হয় এবং আপনাকেও প্রেরণা দেয়।
একমুখী নয়, সম্পর্কটা দুই পক্ষের সমান অংশগ্রহণের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। বন্ধুত্ব মানে প্রতিদ্ব›িদ্বতা নয়। বন্ধু মানে সহযাত্রা, উৎসাহ এবং মানসিক নিরাপত্তা।
ভুল সম্পর্ককে বিদায় জানান : জীবনে মানসিক শান্তি রক্ষা করতে হলে এমন নেতিবাচক বন্ধুদের সঙ্গে সম্পর্ক সমাপ্ত করতে শিখতে হবে। যত কষ্ট হোক, যারা প্রতিনিয়ত আপনার আত্মবিশ্বাসে আঘাত করে, তাদের আপনার জীবনে ইতিবাচক  ভূমিকা রাখতে পারবে না। আপনাকে দরকার আপনার মানুষেরা-যারা সত্যিকারের বন্ধু, যারা ভালো রাখে এবং ভেতর থেকে শক্তি দেয়।
বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলো ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে কিনা তা বোঝার জন্য :
সম্পর্কগুলো পর্যবেক্ষণ করুন: তারা কি সবসময় আপনার উন্নতিতে খুশি হয় নাকি ব্যঙ্গ করে?
অনুভব করুন: তাদের সঙ্গে সময় কাটালে কি আপনি ক্লান্ত বা বিষণœ বোধ করেন?
সীমা নির্ধারণ করুন: যারা মানসিক চাপ সৃষ্টি করে, তাদের সঙ্গে কম সময় কাটান।
মূল্যায়ন করুন: আসল বন্ধুদের কাছে মন দিন, যারা আপনাকে উজ্জীবিত করে।
সত্যিকারের বন্ধুত্ব মানে সমর্থন, প্রেরণা এবং নিরাপত্তা।  জীবনে মানসিক শান্তি রক্ষা করতে শিখুন, ভুল বন্ধুদের বিদায় জানান এবং আপনার চারপাশে সত্যিকারের বন্ধুদের রাখুন। বন্ধুত্ব মানে প্রতিদ্বন্দ্বীতা নয়-বন্ধুত্ব মানে সহযাত্রা।

্রিন্ট

আরও সংবদ