খুলনা | শনিবার | ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩২

গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সাকি

বিচার-সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করানো গ্রহণযোগ্য হবে না

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৭ এ.এম | ৩০ অগাস্ট ২০২৫


গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বিচার, সংস্কার, নির্বাচন-এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রধান জাতীয় স্বার্থ। বিচার ও সংস্কারকে নির্বাচনের মুখোমুখি দাঁড় করানো কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। শুক্রবার সকালে গণসংহতি আন্দোলনের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি এ কথা বলেন।  
জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচন আমাদের সংস্কার সম্পন্ন করার জন্যই দরকার। বিচারকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই নির্বাচন দরকার। গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। সেজন্য নির্বাচনের অপরিহার্যতা আমাদের সবার উপলব্ধি করতে হবে। একটি যথার্থ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে সংস্কারের জায়গায় পৌঁছেছি, সেখানে একটি জাতীয় সনদ তৈরি হচ্ছে, যা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা মনে করি জাতীয় সনদের আইনি বাধ্যবাধকতা ও তা বাস্তবায়নের পথ নিয়ে দ্রুত ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে। নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন আন্দোলনকারী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করবে। নির্বাচনী পরিবেশ কোথাও বিঘিœত হলে সম্মিলিতভাবে আমরা তা প্রতিরোধ করতে পারব। অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ঘটাতে চাই। এটাই আজকের ভু-রাজনীতি ও বাংলাদেশের অস্তিত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জনগণকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতে সাহায্য করবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, আজ আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছি এমন এক সময়, যখন বাংলাদেশ ক্রান্তিলগ্নে আছে। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটেছে। কিন্তু পুরো  স্বৈরাচারী ব্যবস্থা আমরা এখনও উচ্ছেদ করতে পারিনি। আমরা আগেই বলেছি-ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন মানেই পুরো ব্যবস্থা বদল নয়। শাসন ব্যবস্থা এবং সাংবিধানিক ক্ষমতার কাঠামো যদি পরিবর্তন না হয়, তবে গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষা কখনও অর্জিত হবে না। তাই আমরা সংবিধানের ক্ষমতার কাঠামো সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি।  
তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৯৭১ সালের গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষাকে ধারণ করতে পারেনি। সেই সংবিধান ছিল প্রবলভাবে স্বৈরতান্ত্রিক, যেখানে সমস্ত ক্ষমতা এক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছিল। এই সাংবিধানিক কাঠামোর ভিত্তিতেই একের পর এক স্বৈরশাসন, হত্যাযজ্ঞ ও সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট শাসন কায়েম হয়েছে। তাই কাঠামোগত পরিবর্তন এখন জরুরি।
জোনায়েদ সাকি যোগ করেন, আজও দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা গণঅভ্যুত্থান ও আত্মত্যাগকে অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। হত্যাযজ্ঞকে আড়াল করে ফ্যাসিস্ট শাসনকে জায়েজ করার চেষ্টা করছে। বিদেশে ও দেশে নানা ষড়যন্ত্র করছে, অর্থযোগান দিচ্ছে, নাশকতা সৃষ্টি করছে-যাতে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচনের তৎপরতা বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে কিছু গোষ্ঠী পুরোনো ফ্যাসিস্ট কায়দায় নিজেদের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, মব রাজত্ব কায়েমে সহায়তা করছে। আমরা মনে করি-একদিকে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ, অন্যদিকে দক্ষিণপন্থি ফ্যাসিস্ট উত্থানের সব ধরনের প্রচেষ্টা জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, জনগণ চায় একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, অধিকার ও মর্যাদার নিশ্চয়তা। আমরা অন্যায়কে কোনোভাবে প্রশ্রয় দিই না, কোনো যুক্তি দিয়ে সমর্থন করি না। ফ্যাসিস্টদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। তবে সেটি করতে হবে আইন ও গণতান্ত্রিক অধিকার বজায় রেখে। তা না হলে আমরা নিজেরাই ফ্যাসিবাদের খপ্পরে পড়ে যাব। আমরা আশাবাদী-বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে এবং কোনো অপশক্তি এ অগ্রযাত্রাকে থামাতে পারবে না।
এ সময় গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, গণসংহতি আন্দোলন ২০০২ সালে ছাত্র, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনের যৌথ রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলা ও বৃহত্তর স্বার্থে আন্দোলন করাই এর লক্ষ্য। ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নানা গণ-আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০১৫ সালে তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিলে গণসংহতি আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

্রিন্ট

আরও সংবদ