খুলনা | রবিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২১ | ৮ কার্তিক ১৪২৮

দ্রুত অনুমোদন-বাস্তবায়নের দাবি যাত্রী ও চালকদের

খুলনা-আঠারোমাইল মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক সরলীকরণ প্রকল্প গ্রহণ

এস এম আমিনুল ইসলাম |
১২:৪৬ এ.এম | ০৪ অক্টোবর ২০২১

খুলনা-চুকনগর-আঠারোমাইল মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত্যু ফাঁদ হিসেবে চিহ্নিত তিনটি বাঁক ( গুটুদিয়া, বালিয়াখলি ব্রীজ ও কাঁঠালতলা) সরলীকরণ ও চার লেনে উন্নীতকরনে অবশেষে প্রকল্প গ্রহণ করেছে খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। তবে যাত্রী ও চালকদের দাবি, প্রকল্প শিগগির অনুমোদন আর বাস্তবায়ন দরকার। কারণ এটি বাস্তবায়নে দুর্ঘটনা কমবে এবং শত শত মানুষের প্রাণ রক্ষা পাবে।
জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে জুনে। মোংলা বন্দরের উন্নয়ন কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। তাই যোগাযোগের ক্ষেত্রে চাপ সামলাতে ২০১৯ সালে ২৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক (খুলনা রোড) প্রশস্তকরণ এবং এর পুরুত্বসহ ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ করা হয়। এর মধ্যে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে আঠারোমাইল পর্যন্ত ও ১২৫ কোটি টাকা আঠারোমাইল থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে ৭ ফুট করে মোট ১৪ ফুট স¤প্রসারণ করা হয়। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ভোমরা বন্দর থেকে ঢাকা ও মোংলা বন্দরে যাতায়াত দ্রুত ও সহজ হয়েছে। মহাসড়কে দ্রুতগামী পরিবহনের সংখ্যা বেড়েছে।
কাঁঠালতলার বাসিন্দা আব্দুস সালাম ও বালিয়াখালি ব্রীজ এলাকার বাসিন্দা সৈকত জানান, খুলনা-চুকনগর-আঠারোমাইল মহাসড়কের তিনটি স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। শত শত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। অনেকে পঙ্গত্ববরণও করছে। তাই দুর্ঘটনারোধে বাঁক তিনটি প্রশস্থকরণসহ চার লেন করা এখন সময়ের দাবি।
গাড়ি চালক সবুজ জোয়াদ্দার জানান, বাঁকের কারনে এক পাশ থেকে অন্য পাশে কিছুই দেখা যায় না। এছাড়া গাড়ি এ বাঁকের কাছে আসলেও গতি কমায় না। গাড়িগুলো ক্রস করার চেষ্টা করে। এ সময় সড়কে জায়গা অবশিষ্ট থাকে না। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি ঘুরতে না পেরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অথবা মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অনেক সময় অপরিচিত ড্রাইভার সড়ক চিনতে না পেরে গাড়ি নিয়ে খাদে পড়ে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনা রোধে ওই বাঁকগুলো চার লেন করতে হবে। তাহলে একপাশের গাড়ি অন্য পাশে যেতে পারবে না। এতে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
খর্ণিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ জানান, জরুরি ভিত্তিতে তিনটি বাঁক সরলীকরণসহ চার লেনে উন্নীত করা উচিত। সেই সাথে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ওভার টেকিং নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন, গুটুদিয়া, বালিয়াখলি ব্রীজ ও কাঁঠালতলা এই তিনটি বাঁক সরলীকরণসহ চার লেনে উন্নীত করতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদনের জন্য প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে রয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে কাজ আরম্ভ করা হবে। তবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানি কমে আসবে। 
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে খুলনা-চুকনগর-আঠারোমাইল মহাসড়ক আঞ্চলিক থেকে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ