খুলনা | রবিবার | ১৫ মার্চ ২০২৬ | ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

বৃষ্টি বিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজে সমতা পাকিস্তানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
১০:৫৮ পি.এম | ১৩ মার্চ ২০২৬


পাকিস্তানকে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। বৃষ্টি বিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে পাকিস্তান। এদিন ওপেনিং জুটিতেই পাকিস্তান দারুণ শুরু পায়। যদিও পরের দিকের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ২৭৪ রানে। বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সেই লক্ষ্যই দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩। ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যের ধারে কাছেও যেতে পারেনি। উল্টো ১১৪ রানে অল আউট হয়ে ম্যাচ হেরেছে ১২৮ রানে।

বড় রান তাড়া করতে নেমে এদিন শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ১৫ রান তুলতেই স্বাগতিকরা হারায় ৩ উইকেট। দলীয় ১৩ রানেই বাংলাদেশ হারায় ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে। এই ওপেনার মাত্র ১ রান করে শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন ওয়াসিম জুনিয়রকে। এরপর আরেক ওপেনার সাইফ হাসান ওয়াসিমের বলে মিড অফে ক্যাচ দেন আব্দুস সামাদকে। বিপদ আরও বাড়িয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তিনি শূন্য রানে ফিরেছেন। আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি।

এরপর ৬.৩ ওভারের সময় নামে বৃষ্টি। এর কারণে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। ৩ উইকেটে ২৭ রান তখন বাংলাদেশের স্কোর। এরপর ঘণ্টা তিনেকের বিরতির পর আবারও শুরু হয় খেলা। তখন ওভারের সঙ্গে কমে যায় লক্ষ্যও। তবে তা বাংলাদেশের নাগালের অনেকটাই বাইরে চলে যায়। এমন রান তাড়া করতে নেমে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় ভালো কিছুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তাদের জুটি থেকে আসে ৫৮ রান। তবে লিটন এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। মাস সাদাকাতের শিকার হয়ে ফেরার আগে লিটন করেন ৩৩ বলে ৪১ রান।

এরপর শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটারদের আসা যাওয়া। ব্যর্থ হন আফিফ হোসেনও। আগের ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি তিনি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি তিনি। আউট হয়েছেন ১৫ বলে ১৪ রান করে সাদাকাতের বলে সালমান আলী আঘাতে ক্যাচ দিয়ে। একশর আগে বাংলাদেশ হারায় মিরাজকেও। ৬ নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে বাংলাদেশ অধিনায়ক ছিলেন বিরাট তাড়ায়। তিনি বড় শটের নেশায় উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন।

মিরাজ টিকেছেন মাত্র ৫ বল। ফাহিম আশরাফের ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্যাচ দিয়েছেন ওয়াসিমের বলে। এরপর সাদাকাত বোল্ড করে আউট করেছেন রিশাদ হোসেনকে। ফলে ১০১ তুলতেই বাংলাদেশ হারায় ৭ উইকেট। একপ্রান্ত আগলে রেখে খেলতে থাকা হৃদয়কে আউট করেন হারিস রউফ। ৩৮ বলে ২৮ রান করে এলবিডব্লিউ হন তিনি। এরপর আর বেশি দূর এগোতে পারেনি বাংলাদেশ। অল আউট হয়ে যায় দ্রুতই।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে উড়ন্ত সূচনা পায় পাকিস্তান। তারা ওপেনিং জুটিতেই তোলে ১০৩ রান। ফারহান দেখেশুনে খেললেও ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার থেকেই ঝড় তোলেন ওপেনার মাজ সাদাকাত। তাসকিন, মুস্তাফিজ কিংবা নাহিদ, সবাইকে বাউন্ডারি মারেন বাঁহাতি এই ওপেনার। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। সেঞ্চুরির সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন। তবে তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

সাদাকাত ফেরেন ৪৬ বলে ৭৫ রান করে। পাকিস্তানের ইনিংসে এটাই ছিল সর্বোচ্চ রান। এরপর দ্রুত আরও ২ উইকেট হারায় সফরকারীরা। আরেক ওপেনার শাহিবজাদা ফারহানকে বিদায় করেন তাসকিন আহমেদ। নাহিদ রানা আউট করেন ৬ রান করা শামিল হোসাইন। এই বিপর্যয়ের পর পাকিস্তানের হাল ধরেন অভিজ্ঞ সালমান আলী আঘা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই দুজনে চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ১০৯ রান।

এই জুটি ভেঙেছে সালমানের অদ্ভুত রান আউটে। মিরাজের বল সোজা ঠেলে দিয়েছিলেন রিজওয়ান সঙ্গে সঙ্গেই মিরাজ বল লুফে নিতে এগিয়ে যান। সালমান বোলিং প্রান্তের পপিং ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখান থেকেই বল তুলে নিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেন মিরাজ। তবে সালমানের কোনো হেলদোল ছিল না উইকেটের ভেতরে ফেরার। সালমান আউট হয়েছেন ৬২ বলে ৬৪ রান করে। আউট হয়ে উল্টো রাগে গজগজ করতে করতে মাঠ ছাড়েন তিনি ছুড়ে ফেলেন হেলমেটও।

এরপর রিজওয়ানকে হাফ সেঞ্চুরি করতে দেননি মিরাজ। এই স্পিনারের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে রিশাদ হোসেনকে ক্যাচ দিয়েছেন ৪৪ রান করা রিজওয়ান। দুই সেট ব্যাটার ফেরার পর বাকি ব্যাটাররা ছিলেন আসা যাওয়ার মিছিলে। বলার মতো কেউ রান করতে না পারলে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে যায় ১৮০ রানের আগেই। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন রিশাদ। দুটি উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। পাশাপাশি একটি করে উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ