খুলনা | রবিবার | ১৫ মার্চ ২০২৬ | ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

জামায়াতের দাবি স্ট্রোকে মৃত্যু

ঝিনাইদহে কৃষক দল নেতার লাশ নিয়ে বিএনপি’র বিক্ষোভ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি |
০৪:০২ পি.এম | ১৪ মার্চ ২০২৬


ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন। তবে জামায়াত নেতাদের দাবি, হামলায় নয় কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে একটি মিছিল বের করেন বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভাপতি এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপপু, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম ও জেলা কৃষক দলের যুগ্ম-আহŸায়ক ফজলে এলাহী শিমুল এবং নিহতের ছেলে ছাত্রদল নেতা শিপন মুন্সী বক্তব্য দেন।
জেলা বিএনপি’র সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, ‘জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছেন। তার মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।’
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা বলেন, ‘বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানাবে।’ জামায়াত ও শিবিরের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এক সঙ্গে আমরা হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট হটিয়েছি। এখন দেশ গড়ার সময়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে আপনারা মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না।’
নিহত তরু মুন্সী (৫৫) সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের বাসিন্দা ও গান্না ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তিনি প্রায় দুই যুগ প্রবাসে ছিলেন। পাঁচ মাস আগে তরু দেশে ফেরেন। তার ছেলে শিপন রহমান গান্না ইউনিয়ন ছাত্রদলের সদস্য। দেশে ফেরার পর তরুও বিএনপি’র রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
তবে তরু মুন্সীর মৃত্যু স্ট্রোকজনিত কারণে হয়েছে বলে দাবি জামায়াতের। এদিন দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন দলটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তরু মুন্সী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতঙ্কিত হয়ে স্ট্রোক করেন। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।’ তরু মুন্সীর মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে মন্তব্য করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিএনপি’র লোকজন জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও দোকানপাট ভাঙচুর করেছে।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল­াল হোসেন বলেন, ‘নিহত তরু মিয়ার ছেলে ৫১ জনের নাম উলে­খ এবং ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেছেন। এরই মধ্য তিনজন গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদেরও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। ওই এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ