খুলনা | সোমবার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১ চৈত্র ১৪৩২

ফ্যামিলি কার্ড : আঁধারের সাথে যুদ্ধের নারীর পাশে রাষ্ট্র

পরীক্ষিৎ চৌধুরী |
০১:৫৪ এ.এম | ১৫ মার্চ ২০২৬


করোনা মহামারির ধকল তখনও পুরোপুরি কাটেনি; লকডাউনের ধাক্কায় কাজ হারানো মানুষ কেবল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল। ঠিক সেই সময়ে শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যার প্রভাব পড়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিও এর অভিঘাত এখনো এড়াতে পারেনি। এ বছরের ফেব্র“য়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.১৩ শতাংশ, অথচ জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮.০৬ শতাংশ। ফলে বাড়তি দামের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধ জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে নিত্যপণ্যের বাজারকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
এই সংকটের সবচেয়ে নীরব ভুক্তভোগী দেশের প্রান্তিক নারীরা সংসারের হাল ধরতে গিয়ে যে নারী ভোরে উঠে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন, কিংবা স্বামী হারিয়ে একা সন্তান মানুষ করেন। মূল্যস্ফীতির আঘাত তাঁর কাছেই আগে ও তীব্রভাবে এসে পৌঁছায়। সংসার টিকিয়ে রাখতে বছরের পর বছর লড়াই করলেও রাষ্ট্রের সুরক্ষাবলয় তাঁকে খুঁজে পায় সবার শেষে; অনেক সময় রাষ্ট্র তাঁর নামটিও জানে না।
এই  নিদানকালে বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার- কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড, খাল পুনঃখনন কর্মসূচিগুলো দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে গভীর  আলোচনা ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘ব্রেইন চাইল্ড’- ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিটিকে দেখা হচ্ছে নতুন আশার আলো হিসেবে। অর্থনৈতিক মুক্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এটি হতে যাচ্ছে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এখানে উলে­খ্য, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত সরকারের সময়ে চালু হওয়া প্রায় ১০০টি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রত্যাশিত সুফল আনতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে সমন্বয়ের অভাব, কাজের পুনরাবৃত্তি এবং উপকারভোগী নির্বাচনে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে প্রত্যাশিত সুফল আনতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পূর্বের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই জন্ম নিয়েছে এই নতুন অঙ্গীকারনামা। যাকে পুরোনো কাঠামোর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি ডিজিটাল ডেটাবেজ-ভিত্তিক স্মার্ট কার্ড। কার্ডধারীর বয়স হতে হবে কমপক্ষে ১৮ বছর। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরিবারগুলো সরাসরি নগদ আর্থিক সহায়তা পাবে। এর মূল লক্ষ্য সমাজের প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করা। কার্ডধারীরা দুই ধরনের সেবা পাবেন- নগদ অর্থ সহায়তা ও সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই এই টাকা সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক এ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (যেমন বিকাশ, নগদ)মাধ্যমে পৌঁছে যাবে। এছাড়া কার্ডের মাধ্যমে বাজারদরের চেয়ে কম দামে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও চিনিও কেনা যাবে। কীভাবে এই কার্ড পাওয়া যাবে? স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ওয়ার্ডভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে যোগ্য পরিবার নির্বাচন করবেন। উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও’র তত্ত¡াবধানে এবং ইউনিয়ন-ওয়ার্ড পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। উপকারভোগীর তথ্য আইসিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করে নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া হবে, যাতে কোনো দ্বৈততা না থাকে। আবেদন করতে প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ঁ সাইজের ছবি এবং একটি সচল মোবাইল বা ব্যাংক নম্বর। আবেদন ফরম সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে বা অনলাইন পোর্ঁাল থেকে পাওয়া যাবে।
তবে এই সহায়তা সবার জন্য নয়। কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, অথবা পরিবারপ্রধান এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হন, তাহলে সেই পরিবার এই ভাতার আওতায় আসবে না। একইভাবে বড়ো ব্যবসা, বাণিজ্যিক লাইসেন্স বা উলে­খযোগ্য সম্পদ-যেমন গাড়ি, এসি কিংবা বড়ো অঙ্কের সঞ্চয় থাকলেও ওই পরিবার যোগ্য বিবেচিত হবে না। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেলে সেগুলো বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা চলমান ভাতা নিতে পারবেন।স্মার্ট কার্ডে থাকবে স্পর্শবিহীন চিপ, কিউআর কোড, এনএফসিসহ পাঁচ ধরনের প্রযুক্তি। ভাতা জি-টু-পি পদ্ধতিতে মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংকে জমা হবে।
কর্মসূচির শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা স্পষ্ট বলেছেন, পরিবার নির্বাচনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এর শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। উপকারভোগী বাছাইয়ের  তালিকায় অগ্রাধিকারে রয়েছে ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যযুক্ত পরিবার, একা লড়াই করা নারী, তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী। এছাড়া ঘরের দেওয়াল মাটি, পাটকাঠি বা বাঁশের তৈরি পরিবার, ভূমিহীন কৃষিশ্রমিক ও দিনমজুররা অগ্রাধিকার পাবে। ভূমিহীন বলতে বোঝানো হয়েছে, যাদের বসতভিটা ও কৃষিজমি নেই, বা সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বসতভিটা আছে কিন্তু কৃষিযোগ্য জমি নেই। পর্যায়ক্রমে টিসিবির স্বল্পআয়ের কার্ডধারী, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভালনারেবল ওম্যান কর্মসূচির উপকারভোগী, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির পরিবারকেও এই কর্মসূচির সাথে সমন্বয় করে আনা হবে বলে নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন।
সরকার গঠনের মাত্র ২১ দিনের মাথায় ‘সবার আগে স্বাবলম্বী পরিবার, সবার আগে বাংলাদেশ’ এই মন্ত্র নিয়ে ঢাকায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মসূচি অনুযায়ী প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপণ্য দেওয়া হবে। পাইলট পর্যায়ে ১৩ জেলা, ১৩ সিটি করপোরেশন ও ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬৭ হাজার ৬৫৪ নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে সফ্টওয়্যার যাচাইয়ের পর ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার নির্বাচন করা হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি বস্তি এলাকা এবং রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খুলনা, সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী ল্যাপটপে বোতাম চাপতেই সারাদেশের নির্বাচিত নারীদের মোবাইল এ্যাকাউন্টে ভাতার অর্থ পৌঁছে যায়। পর্যায়ক্রমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নারীপ্রধানের হাতে কার্ড দেওয়ার বিষয়টি নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। আমাদের স্মরণে আছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন নারীদের স্কুল পর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করার একটি ধাপ এই ফ্যামিলি কার্ড, কারণ এর মধ্য দিয়ে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠবে। কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর আবেগের জায়গাটিকে মেলে ধরে জানান, নারীর ক্ষমতায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর প্রতিশ্র“তি পূরণ করার দিনটি ছিল তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে যেমন একটি আবেগের দিন, তেমনি তাঁর সরকারের জন্যও একটি ঐতিহাসিক, একটি আবেগের দিন। প্রধানমন্ত্রী ভালো করেই জানেন এবং তার বক্তৃতায় বলেছেনও, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদের পেছনে রাখা হলে এবং শিক্ষা ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়ন করা না হলে দেশকে কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না। সহায়তা কর্মসূচির অর্থ নারীর হাতে সরাসরি দেওয়া মানেই নারীর ক্ষমতায়ন প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
এই কার্ডের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, এটি পরিবারের পুরুষ কর্তার হাতে নয়- ইস্যু হবে মায়ের নামে বা নারীপ্রধানের নামে। এই উদ্যোগকে বোঝার জন্য অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ‘ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ’-এর কথা স্মরণ করা যায়। তাঁর মতে, দারিদ্র্য শুধু আয়ের অভাব নয়, বরং মানুষের সক্ষমতার ঘাটতি। নিয়মিত অর্থনৈতিক সহায়তা মানুষের সেই সক্ষমতার দ্বার খুলে দেয়। দার্শনিক মার্থা নুসবাউমও মনে করেন, নারীকে পরিবারের উপকরণ নয়, স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে দেখার মধ্যেই প্রকৃত উন্নয়ন নিহিত; সম্পদের উপর নারীর নিয়ন্ত্রণ তাই ক্ষমতায়নের একটি মৌলিক শর্ত। ঠিক একই সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে ভারতীয় উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ বিনা আগারওয়ালের কণ্ঠে। তিনি মূলত দক্ষিণ এশিয়ার নারীর ভূমি অধিকার নিয়ে আলোচনা করলেও তাঁর মূল বক্তব্য আরও ব্যাপক- ‘সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে নারীর অন্য সব ক্ষমতায়ন কাগুজে থেকে যায়। ভূমি হোক বা নগদ অর্থ, সম্পদের মালিকানাই নারীকে পরিবারে ও সমাজে কণ্ঠস্বর দেয়।‘ আবার সমাজবিজ্ঞানী সিলভিয়া ওয়ালবি দেখিয়েছেন, পিতৃতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি নারীর অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা। ফলে নারীর নিজের নামে কার্ড এবং তার এ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পৌঁছানো শুধু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। আর আমেরিকান নারীবাদী তাত্তি¡ক বেল হুকস সতর্ক করে দিয়েছিলেন- নারীমুক্তির আলোচনা যদি শুধু শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত নারীকে ঘিরে আবর্তিত হয়, তাহলে সবচেয়ে বঞ্চিত নারী চিরকালই প্রান্তে পড়ে থাকবে। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই প্রান্তের নারীকেই এবার কেন্দ্রে নিয়ে আসতে চাইছে। তাই নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত শুধু অর্থনৈতিক নয়, গভীরভাবে রাজনৈতিকও। ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে সেই রূপান্তরের সূচনা হোক, এমনটি আশা দেশবাসী করতেই পারে।
আজকের সংস্কারমুক্ত সমাজে সকলেই জানে, নারীর হাতে সম্পদ গেলে পরিবারের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-পুষ্টিতে সঠিক বিনিয়োগ হয়। বিশ্ব ব্যাংকের ‘এনজেন্ডারিং ডেভেলপমেন্ট' (২০০১) এবং ইউএনডিপি’র ‘হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট’ এই তত্তে¡র স্বাক্ষ্যপ্রমাণ দেয়।
একবার ভাবুন তো-যে নারী দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করে সংসার টিকিয়ে রাখেন, তাঁর হাতে যদি তুলে দেওয়া হয় একটি ‘ফ্যামিলি কার্ড’। তাঁর কাছে এই কার্ড যেন ডুবন্ত মানুষের জন্য ভেলার মতো-সংকটের সময় একটি আশ্রয়। এই সহায়তা শুধু অর্থের জোগানই দেবে না, জাগাবে আত্মসম্মান ও ভবিষ্যতের আশা। কারণ যখন একটি দেশ তার নারীদের শক্তিশালী করে, তখন সেই দেশও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফ্যামিলি কার্ড সেই স্বপ্নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ-যা প্রান্তিক নারীদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। পিআইডি ফিচার।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ