খুলনা | সোমবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ৬ মাঘ ১৪৩২
সময় পাইনি...
সকালে ক্ষুধা লাগে না...
একটু ওজন কমাচ্ছি আর কি এক বেলা না খেয়ে...
দুপুরে এ্যাডজাস্ট করে নেব..
আপনার উত্তর যদি উপরের চারটির একটি হয়
তাহলে নিচের লেখাটি আপনার জন্য..
* ওজন কমানোর জন্য আর কোন বেলায় আপনি সময় পান না, শুধু একবেলা সেটা সকাল।
সকালে খাবার মিস করলে দুপুরে অনেক বেশি ক্ষুধা লাগে। তখন আপনি যে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলেন সেটি আপনার ওজনকে কখনোই কমাতে পারে না বরং দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।
* শুধু তাই না, সকালে না খেলে শরীর মেটাবলিক রেট কমিয়ে শরীরে জ্বালানি সংরক্ষণ করতে চেষ্টা করে। পরবর্তীতে আপনি খাবার খাবেন তখন শরীর আগে ক্যালরির ঘাটতিটা পূরণ করতে চেষ্টা করে ।
ক্যালরির ঘাটতি পূরণ করতে করতে ক্যালোরি বার্ন calorie burn খনোই হয় না। যেটা ওজন কমানোর মূল মন্ত্র।
* সকালে ক্ষুধা লাগে না কিন্তু অকারণে বিরক্তি লাগে, মাথা ব্যথা হয়, অবসাদ হয়, mood swing হয়, স্ট্রেস পড়ে যেটা আপনার শরীরে Dopamine Serotonin এর মাত্রা কে প্রভাবিত করে। মস্তিষ্কের খাবার হলো glucose.. যা আপনি সকালে উপোস থেকে তাকে দিতে পারেন না। তাই সকালে স্কুল কলেজ অফিস এর ভয়াবহ সব চাপ আপনি গ্লুকোজবিহীন মস্তিষ্ক নিয়েই মোকাবেলা করেন।
* দীর্ঘ সময় উপোস থাকার পর যখন আমরা প্রচুর খাই তখন রক্তের শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। শরীরে চাপ পড়ে। Insulin resistance/ ইনসুলিন রেজিস্টেন্স হয়। মানে শরীরে শর্করার সহ্য ক্ষমতা কমে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে সকালে যারা ব্রেকফাস্ট মিস করেন তাদের ক্ষেত্রে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা ২০% এবং হার্ট এ্যাটাকের ঝুঁকি ২৭ %।
* সকালে খাবার মাধ্যমে মুখে লালারস উজ্জীবিত হয় যা মুখ ও জিহবার ব্যাকটেরিয়া গুলোকে দূর করতে সাহায্য করে। সকালে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে এই লালারস আসে না। মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়।
* সকালে না খেলে শরীরে প্রোটিনের মাত্রা মারাত্মক কমে যায় যা কেরাটিনের উপর প্রভাব ফেলে। চুল পড়তে শুরু করে।
কখন খাবেন? : ঘুম থেকে ওঠার এক ঘন্টার মধ্যেই সকালের খাবার খেয়ে নেয়া ভালো। ঘুম থেকে উঠে চুলায় গরম পানি বসিয়েই না হয় অন্যান্য কাজ সারুন। যারা রান্না করার সময় পান না তারা শুকনো খাবার ফলফলারি খুব দ্রুত তৈরি করা যায় এমন খাবার খেতে পারেন।
কি খাবেন? : অবশ্যই সকালে খাবারে কার্বোহাইড্রেট থাকবে। কেননা খাবার থেকে আসা কার্বোহাইড্রেট হচ্ছে গ্লুকোজের সোর্স এবং glucose ব্রেইনের একমাত্র খাবার।
সকালের খাবারে প্রোটিন থাকতে হবে। অন্তত ২০ গ্রাম। ক্ষুধা দমনে সাহায্য করে। এক বেলা থেকে আরেক বেলা পর্যন্ত শরীরে তৃপ্তি দান করে।
খাবারের তালিকায় দুধ ও ওটস, একটা আস্ত মৌসুমী ফল, সালাদ, জুস, সবজি, ডিম, রুটি রাখতে পারেন।
ভাতের থেকে রুটি বেশি ভালো কারণ রুটির ভিতরে যে গ্লাইকোজেন রয়েছে তা ভাতের glycogen এর তুলনায় দ্রুত গলে।
ওজন কমাতে চান যারা তারা এই খাবারের পাশাপাশি টক দই রাখতে পারেন।
কি খাবেন না? : সকালে উঠেই Bed Tea খালি পেটে চা কফি একদম নয়। এগুলো শরীরের জন্য খুব একটা উপকারী নয়।
এগুলো শুধুই আপনার মনের একটি অভ্যাস। চা কফি জায়গায় গরম পানি খেয়ে দেখবেন আপনার একই রকম অভ্যাস তৈরি হবে।
আমার কাছে সকালে গরম পানি মধু লেবুর রস একটা বুস্টার টনিকের মত কাজ করে।
মনে রাখবেন, সকালে বিপাকক্রিয়ার হার বেশি থাকে প্রায় ৮-১২ ঘন্টা পর আপনার শরীরে খাবার প্রবেশ করে, এসময় যাই খাবেন, তাই হজম হবে, ক্যালোরিও পুড়বে তাড়াতাড়ি।
তাহলে, এখনো কে কে সকালে উপোস ভাঙ্গেননি!!! দয়া করে উপবাস ভাঙুন... প্রাতঃরাশ করুন।
লেখক : এমবিবিএস, এফসিপিএস পর্ব ১ (স্ত্রীরোগ ও প্রসূতি); আবাসিক চিকিৎসক, জাতিসংঘ মিশন (MONUSCO) কিনশাসা, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র।
অন্যান্য
প্রায় ৩ মাস আগে