খুলনা | সোমবার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১ চৈত্র ১৪৩২

খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ

তথ্য বিবরণী |
০২:৫৫ পি.এম | ১৫ মার্চ ২০২৬


খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২৬ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে। সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে  সকাল আটটায় প্রথম জামাত, নয়টায় দ্বিতীয় এবং সকাল ১০টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান এবং বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ও ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। অন্যান্য মসজিদ ও ঈদগাহসমূহে পরিচালনা কমিটি জামাতের সময় নির্ধারণ করবেন।

ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবনে যথাযথভাবে সঠিক রঙ ও মাপের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা এবং সূর্যাস্তের পূর্বে নামানো হবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউস ময়দান জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক (বাংলা ও আরবী) খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, শিশু বিকাশ কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোমস, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে এ উপলক্ষে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। ঈদ-উল-ফিতরের গুরুত্ব সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধামত সময়ে সেমিনার/আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। সুবিধাজনক সময়ে জেলা শিশু একাডেমির আয়োজনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিশু আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হবে। ঈদে আইনশৃংঙ্খলা রক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্পটে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঈদুল ফিতরের সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল তৈরি, উচ্চস্বরে মাইক/ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মটর সাইকেল চালানো যাবে না। ঈদের সময় নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিতকল্পে ১৮ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত নৌপথে বালুবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ এবং রাতের বেলায় স্পীডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সড়কে খোলা পিকআপ/ট্রাকে উচ্চ শব্দে মাইক বাজিয়ে কেউ যেন উচ্ছৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি না করতে পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঈদ উপলক্ষ্যে রাস্তায় যত্রতত্র গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙালে রাস্তা সংকুচিত হয়ে দুর্ঘটনার আশংকা থাকে এবং শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয়। এজন্য গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। ঈদের সময় অজ্ঞান ও মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতা বন্ধে টার্মিনাল সংযোগ সড়ক, রেলস্টেশন, বাস ও নৌযান টার্মিনালসমূহে সাদা পোশকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। এছাড়া জাল টাকার বিস্তাররোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ঈদের ছুটিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান/বাজার/মার্কেট/অফিস/শপিংমলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সকল প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালনের জন্য নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করবে। সকল প্রকার যানবাহন বিশেষ করে বাস/মিনিবাসে অতিরিক্ত যাত্রী ও বাসের ছাদে বা হাতলে ঝুলে কোন যাত্রী বহন করা যাবে না। দৌলতপুর খেয়াঘাট, জেলখানা ঘাট ও রূপসাঘাট-সহ সকল লঞ্চ, খেয়া ও ফেরী ঘাটে অতিরিক্ত টোল/ভাড়া আদায় করা যাবে না এবং লঞ্চ/নৌকা/ট্রলারে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। লঞ্চে পর্যাপ্ত সংখ্যক জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম, বয়া, সচল অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং নৌপথে বাতি ও মাকির্ং এর ব্যবস্থা করতে হবে। নৌপথে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, শ্রমিক, যাত্রীদের হয়রানি ও ভীতিমূলক অবস্থা প্রতিরোধে রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে।

ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সময় মুসল্লীদের গাড়ি পার্কিং এর জন্য খুলনা জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম সংরক্ষিত থাকবে। মুসল্লীদের অযুর জন্য পানির ব্যবস্থা রাখা হবে। বাস, লঞ্চ, স্টিমারে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে না পারে এবং বেপরোয়াভাবে যান চলাচল করতে না পারে তার জন্য আইনশৃংঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। জেলার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘেœর কোন সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাবের কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর ০১৭৭৭৭১০৬৯৯-এ জাননো যাবে। যাকাতের একটি অংশ সরকারি যাকাত ফান্ডে প্রদানের জন্য সোনালী ব্যাংক, বয়রা শাখা, চলতি হিসাব নম্বর-২৭০৪০০১০৮৬৯ অথবা উপপরিচালক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বয়রা, খুলনা-এর নিকট সরাসরি প্রদান করা যাবে।

ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার ও স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। উপজেলা সমূহেও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ