খুলনা | সোমবার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১ চৈত্র ১৪৩২

ভাড়া বাসা থেকে জাবির ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৬ এ.এম | ১৬ মার্চ ২০২৬


সাভারের ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ওই এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। 
নিহত ছাত্রীর নাম শারমিন জাহান। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫১তম আবর্তনের (২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি চাঁদপুরের কচুয়া এলাকার বাসিন্দা। শারমিন তার স্বামী ফাহিম আল হাসানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে শারমিনের স্বামী বাসায় ফিরে শয়নকক্ষে তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শারমিনের স্বামীর ভাষ্য মতে, দুপুরে তিনি বাসায় ছিলেন না। দুপুর আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান যে বাসার প্রধান দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। পরে বিকল্প উপায়ে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে তিনি মেঝেতে শারমিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। শারমিনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তিনি সম্পূর্ণ নিস্তেজ অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে বাসার মালিক ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় শারমিনকে দ্রুত উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডিউটি অফিসার ইউসুফ আলী বলেন, বিকাল সোয়া ৫টার দিকে শারমিনকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তিনি মৃত অবস্থায় ছিলেন। আমরা তাকে ব্রট ডেড (মৃত অবস্থায় আনা) ঘোষণা করি।
খবর পেয়ে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক রাশেদুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সব তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর বিস্তারিত জানানো হবে।’ পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি এর প্রপার ইনভেস্টিগেশন করার।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্ত চলছে। ওই ছাত্রীর স্বামীকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।’
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ