খুলনা | সোমবার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১ চৈত্র ১৪৩২

সড়ক দুর্ঘটনায় রামপাল থানায় মামলা * কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে তদন্ত কমিটি

শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার, স্বজনরা ফিরছেন বাড়িতে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
০১:৪৪ এ.এম | ১৬ মার্চ ২০২৬


শোক কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা। মোংলা উপজেলার শেহালাবুনিয়ার বাড়িতে আসা স্বজনরা রোববার বিকেল থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। স্বজনদের আশা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন এই পরিবারের সদস্যরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আশরাফুল ইসলাম জনি ও তার অন্যান্য স্বজনদের বারবার কবরস্থানে যেতে দেখা গেছে। 
এদিকে মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে রামপাল থানায় মামলা দায়ের করেছেন আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল ইসলাম জনি। মামলায় জনি অভিযোগ করেন, দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তদন্তপূর্বক বিচারের দাবি জানান তিনি। রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল­াহ আল মামুন বলেন, বেলাইব্রিজ এলাকায় দুর্ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন আমরা প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করেছি। তথ্য বিশ্লেষণ চলছে। তিনি আরও বলেন আমাদেরকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছিল। তবে একটু সময় লাগবে। কারণ এই সড়কে বারবার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। এজন্য একজন বিশেষজ্ঞ পেতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট’র এক্সিডেন্ট রিসার্স ইনস্টিটিউটকে চিঠি দিয়েছি। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশেষজ্ঞ পাঠালে দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে।
আশরাফুল ইসলাম জনি বলেন, দুর্ঘটনার খবরে সবাই আসছিল। আজকে থেকে নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়া শুরু করেছেন। আত্মীয় স্বজনরা কাছে থাকায় মা কিছুটা শান্ত ছিল। আমরা তো সব হারিয়েছি। এখন আল­াহর উপর ভরসা করে বেঁচে আছি।
কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাফর আহমেদ বলেন, নিহতদের পক্ষ থেকে রামপাল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হন। পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে বর, বরের বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ ৯ জনকে মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়। নববধূ, তার বোন ও দাদিকে দাফন করা হয় কয়রার নকশা এলাকায় এবং নানিকে দাফন করা হয় চালনা এলাকায়। অপর দিকে মাইক্রোবাস চালকের দাফন হয়েছে তার নিজ গ্রাম রামপালে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ