খুলনা | সোমবার | ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১ চৈত্র ১৪৩২

ঈদের ছুটি পাচ্ছেন না বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনে ‘রেড এ্যালার্ট’

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি |
০১:৪৫ এ.এম | ১৬ মার্চ ২০২৬


সুন্দরবনের বন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবছরও ঈদের ছুটি পাচ্ছেন না। বন রক্ষার সার্থে ঈদের ছুটিতে নিজ নিজ কর্মস্থলেই থাকতে হবে তাদের। দীর্ঘ এই ছুটির ফাঁকে যাতে কোনো প্রকার বন অপরাধ সংঘটিত না হয় সে লক্ষ্যে পূর্ব সুন্দরবনে ‘রেড এ্যালার্ট’ জারি করেছে বনবিভাগ। এ জন্য বনবিভাগের স্মার্ট টিমের বিশেষ টহলের পাশাপশি বনরক্ষীদের নিয়মিত টহল আরো জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া পূর্ব বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের বনের পাশের ৭৬টি গ্রামে ওয়াইল্ড টিম, ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম (ভিটিআরটি), কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্র“প (সিপিজি) ও বাঘ বন্ধু সংগঠনের প্রায় দেড়শ’ কর্মী গ্রাম পাহারায় নিয়োজিত রয়েছে।
বনবিভাগ জানিয়েছে প্রতি বছর ঈদ বা কোরবানির ছুটিকে হরিণ শিকারের নিরাপদ ও উপযুক্ত সময় হিসেবে বেছে নেয় শিকারী চক্র। তবে শুধু হরিণ শিকারই নয়, এই সময় বেড়ে যায় বিষ প্রয়োগে মৎস্য আহরণ এবং অগ্নিকান্ডের প্রবনতা। বিশেষ করে দুই ঈদের ছুটির অপক্ষোয় থাকে সুন্দরবনের সব ধরনের অপরাধীরাই। যে কারণে বিগত কয়েক বছর ধরেই বন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ এবং কোরবানির ছুটি বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়ে আসছে। এর ফলে বন অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি বন বিভাগের। 
সুন্দরবন সুরক্ষায় নিয়োজিত ওয়াইল্ড টিমের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মোঃ আলম হাওলাদার বলেন, বন বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সারা বছরই সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় কাজ করে থাকি। বিশেষ করে ঈদের ছুটিতে চোরা শিকারীসহ বন অপরাধীদের দৌরাত্ম্য অনেক বেড়ে যায়। এই সময়টাতে যাতে অপরাধীরা কোনো ভাবে অপতৎপরতা চালাতে না পারে সেজন্য বনের পাশের ৭৬টি গ্রামে আমাদের ১৪৮ জন সদস্য বন বিভাগের নির্দেশনায় সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোঃ রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটির ফাঁকে সুন্দরবনে হরিণসহ বন্যপ্রাণী শিকার, বিষ প্রয়োগে মৎস্য আহরণ বন্ধ এবং অগ্নিকান্ড প্রতিরোধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে কারণে বনরক্ষীরা এবারেও ইদের ছুটি ভোগ করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বছরও ঈদের সময় বনরক্ষীরা কেউই ছুটি ভোগ করেননি। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্মার্ট টিমের বিশেষ টহল এবং বনরক্ষীদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে। সব ধরনের বন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঈদের ছুটি চলাকালীন সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে ‘উচ্চ সতর্কতা বা ‘রেড এ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ