খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ মার্চ ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২

ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা বিএনপি নেতৃবৃন্দের

নগরীর দৌলতপুরে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫৫ এ.এম | ১৭ মার্চ ২০২৬


খুলনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে রাশিকুল আলম রাশু নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর দৌলতপুর কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। দৌলতপুর থানা-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
নিহত রাশু নগরীর দৌলতপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হন। তার বাবা শরিফুল আনাম দৌলতপুর থানা বিএনপি নেতা। দৌলতপুর থানার দেয়ানা এলাকায় তাদের বাড়ি। 
প্রসঙ্গত, গত আড়াই মাসে খুলনা মহানগরীতে ৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ৫ জন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, রাশু রাজনীতির পাশাপাশি কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের পাশে ইট বালুর ব্যবসা করতেন। সোমবার সকালে তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন সন্ত্রাসী তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। তিনটি গুলির মধ্যে একটি তাঁর মাথার পেছনে বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
যে জায়গায় ঘটনাটি ঘটে তার পাশেই ফায়ার সার্ভিসের অফিস রয়েছে। এর বিপরীত পাশেই খুলনা কৃষি কলেজ। সেখানে তেলের মিল ও প্রায় দশটি দোকান রয়েছে। ঘটনার সময় আশপাশে লোকজন ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ আশরাফ বলেন, জরুরি বিভাগে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে গুলিবিদ্ধ নগর যুবদল নেতা রাশিকুল আলম রাশুকে খুমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ছুটে যান খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও নগর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ সময় তিনি শোকাহত পরিবার ও দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেন। নৃশংস এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান তিনি।
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম রুবেল বলেন, এক সময় রাসু ছাত্রদল করতেন। পরবর্তীতে যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তবে সংগঠনে তার কোনো পদ-পদবী নেই।
তিনি বলেন, খুলনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতি রয়েছে। এখনও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। যে কারণে এমন ঘটনা প্রায় ঘটছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবি করেন তিনি।
এদিকে নৃশংস এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি’র ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এমপি, মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু ও চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজসহ নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দিনের আলোতে নগরীর ব্যস্ত এলাকায় একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ। এধরনের নৃশংস হত্যাকান্ড কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। 
একই সাথে নিহতের পরিবারকে ধৈর্য্যধারণের আহŸান জানিয়ে বলেন, খুলনার মাটিতেই খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। পৃথক বিবৃতিতে একই দাবি জানিয়েছেন দৌলতপুর থানা বিএনপি’র সভাপতি মুর্শিদ কামাল ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ইমাম হোসেন। এর আগে ঘটনা শুনে বিএনপি মহানগরের শীর্ষ নেতাকর্মীরা রাসুর বাড়িতে ছুটে যান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ