খুলনা | মঙ্গলবার | ১৭ মার্চ ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২

ঈদ সামনে রেখে বাড়তি টাকায় খুলনায় মিলছে নতুন টাকা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে জমজমাট বেচাকেনা

এস এম জাহিদ |
০১:৫৬ এ.এম | ১৭ মার্চ ২০২৬


পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে খুলনায় নতুন টাকার বেচাকেনা জমে উঠেছে। ঈদের সালামি দেওয়ার জন্য নতুন নোটের প্রতি মানুষের আগ্রহকে কেন্দ্র করে নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় বসেছে নতুন টাকার অস্থায়ী বাজার। প্রতিদিন সেখানে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
ঈদ মানেই আনন্দ, আর সেই আনন্দের বড় অংশ জুড়ে থাকে ঈদ সালামি। ছোট ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন কিংবা সহকর্মীদের হাতে যদি চকচকে নতুন নোট তুলে দেওয়া যায়, তাহলে আনন্দ যেন আরও বেড়ে যায়। এই চাহিদাকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর ঈদের আগে খুলনায় নতুন টাকার ব্যবসা জমে ওঠে।
তবে এ বছর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নতুন নোট বাজারে ছাড়েনি। ফলে আগের বছর সংগ্রহ করা নতুন নোট দিয়েই চলছে কেনাবেচা। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন টাকার ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক মোড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিক্রেতা ছোট ছোট টেবিল সাজিয়ে বসেছেন। তাদের টেবিলে থরে থরে সাজানো রয়েছে ১০, ২০, ৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকার নতুন নোটের বান্ডিল। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেকেই নোটগুলো ফুলের তোড়ার মতো করে সাজিয়ে রেখেছেন, যা দূর থেকেই চোখে পড়ে।
তবে এই নতুন টাকা কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের দিতে হচ্ছে বাড়তি মূল্য। বিক্রেতারা জানান, ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিল কিনতে ক্রেতাদের দেড়শ’ থেকে শুরু করে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে।
নতুন নোট কিনতে আসা মোজাহিদুর রহমান আসিফ নামে এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, ঈদে শিশুদের সালামি দেওয়ার জন্য তিনি নতুন টাকা সংগ্রহ করতে এসেছেন। তিনি জানান, ১০ টাকার নতুন নোটের দু’টি বান্ডিল কিনতে তাকে অতিরিক্ত প্রায় ৭০০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
ডুমুরিয়ার মাগুরঘোনা থেকে নতুন টাকা কিনতে আসা আশরাফ হোসেন বলেন, শিশুদের আনন্দ দেওয়ার জন্যই নতুন টাকা নিয়েছেন। তবে সাড়ে তিন হাজার টাকার নতুন নোট নিতে তাকে প্রায় ৫০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নতুন টাকার জন্য অতিরিক্ত মুনাফা নেওয়া অন্যায় হলেও বিষয়টি দেখার কেউ নেই।
এদিকে বিক্রেতারা বলছেন, তারাও বেশি দামে নতুন নোট সংগ্রহ করে আনতে বাধ্য হচ্ছেন। ব্যবসায়ী মোঃ ইলিয়াস বলেন, ঈদের সময় মানুষের চাহিদা বেশি থাকায় অনেকেই নতুন নোট কিনতে চান। তিনি জানান, বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বেশি দামে নোট সংগ্রহ করতে হয়। অনেক সময় এক হাজার টাকার নোট সংগ্রহ করতেই তাদের ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি খরচ হয়।
তাই নতুন টাকার বান্ডিল বিক্রির সময় ক্রেতাদের কাছ থেকে কিছুটা বেশি দাম নিতে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, খুলনার এই নতুন টাকার ছোট্ট বাজারে ততই বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। বিশেষ করে শিশুদের ঈদ সালামির আনন্দ বাড়াতে অনেকেই অতিরিক্ত দাম দিয়েও নতুন নোট কিনে নিচ্ছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ