খুলনা | বুধবার | ১৮ মার্চ ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২

বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানপন্থী গোষ্ঠীর সংঘর্ষে নিহত ৪

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৯ পি.এম | ১৭ মার্চ ২০২৬

 

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন বাহিনী ও ইরানসমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে শহরের জাদরিয়া এলাকায় ইরানপন্থী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত বাড়িতে বিমান হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

একই সময়ে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গ্রিন জোনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দূতাবাসের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ, আগুন ও ধোঁয়া দেখা গেছে। দূতাবাসের সি-র‍্যাম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত দুটি ড্রোন ভূপাতিত করলেও একটি ড্রোন ভেতরে আঘাত হানে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

এএফপি জানায়, জাদরিয়ার হামলার লক্ষ্যবস্তু ভবনটিতে ইরানি উপদেষ্টারাও অবস্থান করছিলেন। পিএমএফ ২০১৪ সালে আইএসআইএল মোকাবিলায় গঠিত শিয়া-প্রধান আধাসামরিক জোট, যা বর্তমানে ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ।

এর আগে গ্রিন জোনের কাছেই আল-রাশিদ হোটেলে ড্রোন হামলা হয়, তবে এতে কোনো হতাহত হয়নি। হোটেলটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন বিদেশি মিশন ও তেল কোম্পানির কর্মীদের আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাগদাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গ্রিন জোনে সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলাগুলো পশ্চিমাঞ্চলীয় আনবার প্রদেশের আল-কায়েম এলাকায় পিএমএফ চৌকিতে সন্দেহভাজন মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেখানে অন্তত আটজন সেনা নিহত হন।

এদিকে কাতাইব হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী তাদের এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। একই দিনে বসরা প্রদেশের মাজনুন তেলক্ষেত্রেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যদিও হতাহতের খবর নেই। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান উত্তেজনার প্রভাবে ইরাকের তেল খাতেও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে তেলমন্ত্রী হায়ান আবদুল-গনি জানিয়েছেন, কিরকুক থেকে তুরস্কে তেল সরবরাহ পাইপলাইন এক সপ্তাহের মধ্যে চালু হতে পারে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ