খুলনা | বুধবার | ১৮ মার্চ ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে কখনোই অংশ নেবে না ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ

খবর প্রতিবেদন |
১১:২৫ পি.এম | ১৭ মার্চ ২০২৬

 

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি সচল করার জন্য কোনও সামরিক অভিযানে ফ্রান্স কখনোই অংশ নেবে না বলে জানিয়েছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তবে যুদ্ধ শেষ হলে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই পথে নৌ-চলাচলের স্বাভাবিক করতে তার দেশ একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য ফ্রান্সের মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে ওই মন্তব্য করেছেন ম্যাক্রোঁ।

তিনি বলেছেন, ‘আমরা এই যুদ্ধের কোনও পক্ষ নই এবং সেই কারণেই বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি খোলা বা মুক্ত করার অভিযানে ফ্রান্স কখনোই অংশ নেবে না’।

ফরাসি কর্মকর্তারা আগেই বলেছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছাড়াই হরমুজ প্রণালী সুরক্ষিত করার জন্য একটি জোট গঠনের নিজস্ব প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফ্রান্স। গত সপ্তাহ থেকেই ইউরোপীয় মিত্র, ভারতসহ এশীয় এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করছেন তারা।

এ বিষয়ে মাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে গেলে—এবং আমি সচেতনভাবেই এই শব্দটি ব্যবহার করছি- অর্থাৎ মূল বোমাবর্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে, আমরা অন্যান্য দেশের সঙ্গে সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকব। কিন্তু এটি একটি জটিল উদ্যোগ, যার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দিক জড়িত সকল অংশীদারকে নিয়ে এটি গড়ে তুলতে হবে। এই কাজের জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা ও উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজন হবে।’

এদিকে গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি সচল করতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। এ বিষয়ে মিত্রদের রাজি করাতে ম্যাক্রোঁর অবস্থানকে তিনি ‌‌‘১০-এর মধ্যে ৮’ নম্বর দেন। তবে আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে অভিযানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

প্রসঙ্গত, হরমুজ প্রণালি নিরাপদে সচল রাখতে মিত্র দেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই ডাকে খুব একটা সাড়া মেলেনি। একের পর এক দেশ তার এই আহ্বান প্রত্যখ্যান করছে। সেই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ফ্রান্স। এরপর একই অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং গ্রিস।

উল্লেখ্য, বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথটি বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।

বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।

প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই কার্যত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে গেছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বেড়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স

প্রিন্ট

আরও সংবাদ