খুলনা | বুধবার | ১৮ মার্চ ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২

সংবিধান সংস্কার পরিষদ : জাতীয় সংসদেই বিতর্কের অবসান হতে হবে

|
১২:২৪ এ.এম | ১৮ মার্চ ২০২৬


জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী দলের বিতর্ক ঘিরে রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, জাতীয় সংসদে আলাপ-আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মধ্য দিয়েই এর সমাধান হতে হবে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে যেকোনো বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকাটাই স্বাভাবিক; কিন্তু সেটা কোনোভাবেই যেন রাজনৈতিক বিরোধের কারণ না হয়, নির্বাচিত আইনপ্রণেতাদের সেদিকে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া উচিত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে উত্তাপ তৈরি হবে, তা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল। ১২ মার্চ প্রথম দিনের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময় বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর দ্বিতীয় দিন রোববার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে-বিপক্ষে বাহাস হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের বৈঠকের পর বিরোধী দল বলেছে, সংসদের ভেতরে যদি জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন না ঘটে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই রাজপথে নামতে হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়।
খবর জানাচ্ছে, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহŸান না করায় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এর জবাবে সরকারি দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় রাষ্ট্রপতি এ পরিষদের অধিবেশন আহŸান করেননি। দুই পক্ষের এই বিতর্কের মধ্যে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত না দিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়ে নোটিশ পাওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত জানাবেন।
অন্তর্র্বতী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার ভিত্তিতে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করেছিল। নোট অব ডিসেন্টসহই বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিল। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি সংবিধান পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ ছাড়া নির্বাচনে জয়ী ব্যক্তিদের একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নেই-এ যুক্তিতে বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
এটা সত্যি যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে আইনি ও সাংবিধানিক প্রশ্নটি রয়েছে। তবে এটাও অস্বীকারের কোনো উপায় নেই যে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক পথে নিয়ে যাওয়ার যে সুযোগ তৈরি করে দেয়, তার ধারাবাহিকতাতেই গত ১২ ফেব্র“য়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি সুষ্ঠু, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নির্বাচিত সংসদ ও জনপ্রতিনিধিদের ওপর জনগণের প্রত্যাশা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। নাগরিকেরা প্রত্যাশা করেন, বাংলাদেশের রাজনীতি পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে আসবে। রাজপথ নয়, জাতীয় সংসদ হবে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
ঈদের ছুটি শেষে সংসদের পরবর্তী বৈঠক বসবে ২৯ মার্চ। আমরা আশা করি, সরকারি দল ও বিরোধী দল দুইপক্ষই সংবিধান, আইনকানুন ও গণ-অভ্যুত্থানের জন-আকাক্সক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে এবং আইনপ্রণেতারা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্ক অবসানের একটি পথ বের করবেন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ