খুলনা | বুধবার | ১৮ মার্চ ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২

রূপসাঘাট পশ্চিমপাড়ে ফেলে রাখা পন্টুন অপসারণে নেই কার্যকরী পদক্ষেপ গতিধারা হারাচ্ছে নদী

আল মাহমুদ প্রিন্স |
০১:৫৯ এ.এম | ১৮ মার্চ ২০২৬


খুলনার রূপসাঘাট পশ্চিমপাড়ে ফেলে রাখা পন্টুন অপসারণে নেই কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ। অন্তত পাঁচ মাস ধরে পন্টুনটি পশ্চিম পাড়ে ফেলে রাখায় একদিকে নদী যেমন হারাচ্ছে তার গতিধারা, অপর দিকে হারাচ্ছে নাব্যতা। এদিকে নদীর স্রোতধারা বহমান রাখতে ও নাব্যতা রোধে পন্টুনটি অপসারণের জোর দাবি সচেতন মহলের। কর্তৃপক্ষ এখনো কার্যকরী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। পশ্চিমপাড়ের একাধিক বাসিন্দা বলেন, পন্টুনের বিভিন্ন অংশ কেটে নিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। তারা বলেন, এ ব্যাপারে প্রতিবাদ করার কেউ নেই। 
সোমবার সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, রূপসা নদীর পশ্চিম পাড়ে একটি পরিত্যক্ত পন্টুন পার্কিং করা ছিলো। ওই পন্টুনটি ট্রলারের যাত্রী ওঠানামা কাজেও ব্যবহার করা হতো। কিন্তু রাষ্ট্রীয় এ সম্পদ (পন্টুন) অন্তÍত পাঁচ মাস আগে সড়ক ও জনপদ (সওজ) কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রূপসাঘাটের পশ্চিম পাড়ে রাখা হয়। বিশাল এ পন্টুনটি দিনের পর দিন পলি জমে ভরাট হচ্ছে। পন্টুনটি একদিকে যেমন ভরাট হয়ে আসছে  অপর দিকে নদীর পশ্চিম পাড়ে নদীর স্রোতধারা বাধাপ্রাপ্ত যেমন কমে আসছে অন্যদিকে নদী হারাচ্ছে নাব্যতা। নাব্যতাকে এমন একটি জলাশায়ের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেও বলা হয় যেখানে কোনো জাহাজের জন্য পর্যাপ্ত আন্ডার কিল ক্লিয়ারেন্স থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমন শর্তে রূপসাঘাটের পশ্চিম পাড়ের একাধিক ব্যক্তি বলেন, সড়ক ও জনপদ কর্তৃপক্ষ রূপসারঘাটের পশ্চিমপাড়ে পন্টুনটি পার্কিং করে রেখেছেন। তাদের ভাষ্য পন্টুন একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ। অথচ প্রকাশ্যে দিবালোকেও পন্টুনের বিভিন্ন অংশ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের কেউ নেই বললে চলে। পন্টুনের বিভিন্ন অংশ কেটে নিয়ে কালোবাজারে বিক্রি করে পকেট ভারী করছেন একটি চক্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ব্যাপারে ভূমিকা নেই বললেই চলে। 
পশ্চিম রূপসাঘাট এলাকা দিয়ে যাওয়া ফকিরহাটের খাজুরা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, পশ্চিমপাড়ের পন্টুনটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে। পন্টুনের ভিতরে পলি জমছে। পন্টুনের কারণে নদী নাব্যতা হারাচ্ছে। তিনি বলেন, এতে ক্ষতি হচ্ছে নদীর। 
বটিয়াঘাটা উপজেলার বাইনতলা এলাকার জাহিদুল ইসলাম বলেন, রূপসাঘাটে পশ্চিম পাড়ের পন্টুনের কারণে ওই এলাকায় নদী নাব্যতা হারাচ্ছে। তাই পন্টুনটি দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে তিনি দায়িত্বশীল কর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।  
রূপসা উপজেলার চর-রূপসা গ্রামের মোঃ নাসির উদ্দিন বলেন, পন্টুনটি পশ্চিম পাড়ে রেখে দেওয়ায় স্রোত নেই বললে চলে। এতে নদী হারাচ্ছে গতিপথ। তাই নদী বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 
সড়ক ও জনপদ (সওজ) খুলনা’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোঃ জাকির হোসের এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে রূপসাঘাটের পশ্চিম পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা পন্টুনটি দ্রুত অপসারণে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন কিনা জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো জবাব না দিয়েই কলটি কেটে দেন।     

প্রিন্ট

আরও সংবাদ