খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ মার্চ ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২

সাতক্ষীরায় গলায় ফাঁস দিয়ে তরুণ চিকিৎসকের আত্মহত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০৩:৫৬ পি.এম | ১৮ মার্চ ২০২৬


সাতক্ষীরায় গলায় রশি দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা এক মেধাবী তরুণ চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর রাত তিনটার দিকে শহরের নারিকেলতলা এলাকার কাঠিয়া কর্মকার পাড়ায় নিজের বাড়িতে শোবার ঘরের ফ্যানের সাথে গলায় রশি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

আত্মহাননকারী মেধাবি চিকিৎসকের নাম ডাঃ সঞ্জীব দত্ত (২৭)। তিনি সাতক্ষীরা শহরের নারিকেলতলা এলাকার কাঠিয়া কর্মকার পাড়ার তপন কুমার দত্তের ছেলে।

কাঠিয়া কর্মকারপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির সমিতির সভাপতি গৌর দত্ত জানান, সঞ্জীব দত্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করার পরে এফসিপিএস করার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন। লন্ডন থেকে সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন। বাড়ি ফেরার আগে থেকেই পড়ালেখার চাপসহ বিভিন্ন কারণে তিনি মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। বুধবার ভোর রাত তিনটার দিকে নিজের শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় রশি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

তিনি আরো বলেন, সঞ্জীব খুব মেধাবী ছাত্র ছিল। কিন্তু সে চিকিৎসক হতে চায়নি। বাবা-মায়ের প্রেসারে পড়ে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং সফলতার সাথে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। চিকিৎসা পেশায় উচ্চতর ডিগ্রি নিতে বিদেশে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।

সঞ্জীব দত্তের বন্ধু অমিত জানান, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৫ এসএসসি ব্যাচের আমাদের বন্ধু ছিল সঞ্জীব। সে খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করা মেধাবী শিক্ষার্থী সজীব দত্ত আজ ১৮ মার্চ ভোররাতে কাঠিয়া কর্মকার পাড়ায় তার পৈতৃক বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেছে।

এই মৃত্যুর কারণ হিসেবে তিনি হতাশাজনিত আত্মহত্যা উল্লেখ করে আরো বলেন, সজীব দত্ত খুবই সদালাপী ও অন্তর্মুখী ছিলো। পুরো স্কুল জীবনে সে তার নরম ও সুন্দর ব্যবহারের জন্য সকলের প্রিয় ছিলো। সজীব দত্ত ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্রদের একজন ছিলো। তার অকালপ্রয়াণ এবং দুঃখজনক বিদায়ে আমরা মর্মাহত ও শোকাভিভূত।

সজীবের বাবা তপন কুমার দত্ত জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সজীব তার ঘরে ঘুমাতে যান। বুধবার সকালে তার মা কাঞ্চন দত্ত পূজা করার জন্য ওই ঘরের দরজায় ধাক্কা দিলে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারেন এবং ছেলেকে সিলিং ফ্যানের সাথে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। মেধাবী এই চিকিৎসকের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাঃ মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না থাকায় ময়না তদন্ত  ছাড়াই মরদেহ দাহ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ