খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ মার্চ ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২

খুলনায় শেষ মুহূর্তে টুপি-আতরের দোকানে উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩৯ এ.এম | ১৯ মার্চ ২০২৬


ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কেনাকাটার শেষ মুহূর্তে খুলনায় টুপি ও আতরের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পছন্দের পোশাক, জুতা ও কসমেটিকস কেনা শেষ করে এখন ক্রেতারা ছুটছেন টুপি ও সুগন্ধির দোকানে। ফলে নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
বুধবার ডাকবাংলো মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে, যা রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। তরুণ, বৃদ্ধসহ সব বয়সী মুসল্লিরা ভিড় করছেন পছন্দের টুপি ও আতর কিনতে। দোকানগুলোর পাশাপাশি ফুটপাতেও অস্থায়ী দোকানে জমজমাট বেচাকেনা চলছে।
দোকানগুলোতে থরে থরে সাজানো রয়েছে দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন ধরনের টুপি। ব্যবসায়ীরা জানান, অধিকাংশ বিদেশি টুপি পাকিস্তান থেকে আমদানি করা। দেশি টুপির দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকার মধ্যে, আর বিদেশি টুপির দাম ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। কিছু উন্নত মানের টুপির দাম ৫০০ টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে তুলনামূলক কম দামের কারণে দেশি টুপির চাহিদা বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
আতরের দোকানগুলোতেও একই চিত্র। বিভিন্ন সুগন্ধির আকর্ষণীয় প্যাকেট ও ছোট ছোট শিশিতে সাজানো আতর ক্রেতাদের দৃষ্টি কাড়ছে। বিক্রেতারা জানান, এবার “ইউরো স্পোর্টস”, “স্ট্রংগার উইথ মি”, “বাখুর” ও “ভ্যামপার ব্লাড” নামের সুগন্ধির চাহিদা বেশি। ৬ মিলির প্রতিটি আতর ১২০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সৌদি আরব থেকে আমদানিকৃত “আফটার মি”, “খায়বার” ও “রওজা” সুগন্ধিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যেগুলোর ৩ মিলির প্রতিটি শিশি প্রায় ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডাকবাংলো এলাকার এক বিক্রেতা জানান, এসব আতরের বেশিরভাগই ভারত ও সৌদি আরব থেকে আনা। এগুলোর ঘ্রাণ তীব্র না হলেও দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, যা ক্রেতাদের কাছে বিশেষ ভাবে আকর্ষণীয়। 
তিনি আরও বলেন, ২৩ রমজানের পর থেকেই বিক্রি বেড়েছে কয়েকগুণ। বর্তমানে সকাল ১০টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত টানা বেচাকেনা চলছে।
ক্রেতাদের মধ্যেও লক্ষ্য করা গেছে বাড়তি আগ্রহ। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের জন্য টুপি ও আতর কিনছেন। এক ক্রেতা জানান, “জামা-কাপড় কেনা শেষ, এখন ঈদের নামাজের জন্য টুপি ও সুগন্ধি কিনতে এসেছি। হালকা ঘ্রাণের আতরই বেশি পছন্দ।”
দিঘলিয়া থেকে আসা আরেক ক্রেতা বলেন, বন্ধুদের কাছ থেকে শুনে একটি নির্দিষ্ট সুগন্ধি কিনতে এসেছেন। ঈদের দিন নামাজে যাওয়ার আগে সেটি ব্যবহার করবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে শিশুদের মধ্যেও নতুন টুপি কেনার আনন্দ চোখে পড়ার মতো। অনেক শিশু বাবা-মায়ের সঙ্গে এসে নিজের পছন্দের টুপি বেছে নিচ্ছে। কেউ কেউ নতুন টুপি না হলে ঈদের নামাজ পড়তে যাবে না-এমন আবদারও করছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর ঈদের আগে শেষ কয়েকদিন টুপি ও আতরের চাহিদা বাড়ে। তবে এবার ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। এতে করে তাদের বিক্রিও সন্তোষজনক হয়েছে।
সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে খুলনার বাজারগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। টুপি ও আতরের এই জমজমাট বেচাকেনা সেই উৎসবেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ