খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ মার্চ ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২

ফজিলতপূর্ণ দুই ঈদের রাত

মুফতি রবিউল ইসলাম রাফে |
০২:০৭ এ.এম | ১৯ মার্চ ২০২৬


আজ ২৯ রমজান। কাল চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ। ঈদ মানেই খুশী ও আনন্দ। প্রত্যেক জাতিরই একটি খুশীর দিন থাকে, মুসলিম জাতির খুশীর দিন হল দুই ঈদ। ঈদ আমাদেরকে সাম্য, সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন শেখায়। হুজুর (সাঃ) হিজরত করে মদিনায় আসার পর দেখলেন, মদিনার লোকেরা বছরে দুই দিন আনন্দ-উৎসবের দিন হিসাবে আমোদফূর্তি এবং খেলাধূলায় লিপ্ত হয়। এটি ছিল ইসলামপূর্ব জাহিলিয়াত যুগের রীতি। হুজুর (সাঃ) সাহাবীদেরকে এটি করতে নিষেধ করলেন এবং বললেন যে, আল্লাহ তায়ালা এই দুই দিনের পরিবর্তে এর চেয়েও উত্তম দুইটি দিন তোমাদিগকে দান করেছেন-ঈদুল আযহার দিন এবং ঈদুল ফিতরের দিন  (মেশকাত: আবু দাউদ)। হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোযা ভাঙ্গ (মেশকাত: মুসলিম)। ঈদের চাঁদ দেখার ব্যাপারে নবী করীম (সাঃ)-এর নির্দেশ হল, যদি মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে রোযা ৩০টি পূর্ণ কর (সহীহ মুসলিম)। নতুন চাঁদ আল্লাহর অপার কুদরতের একটি জ্বলন্ত নিশানা। নতুন চাঁদ দেখে আল্লাহর রসুল (সাঃ) আমাদের  এই দোয়া পড়ার কথা বলেছেন, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমা-নি ওয়াছ ছালামাতি ওয়াল ইসলামি, রব্বী ওয়া রব্বুকাল্লাহ; হিলা-লু রুশদি ওয়া খইর। অর্থঃ হে আল্লাহ, এই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত কর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। হে চাঁদ তোমার ও আমার প্রভু একমাত্র আল্লাহ (তিরমিজী)। আমরা অনেক সময় ঈদের নতুন চাঁদ দেখে সব কিছু ভূলে যাই, ইবাদতের কথা আর মনে থাকে না। অথত ঈদের রাত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। হাদিসে এসেছে, যদি কোন ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত জেগে ইবাদত করে তাহলে যে দিন অন্যান্য দিল মরে যাবে সেদিন তার দিল মরবে না অর্থাৎ কিয়ামতের দিনের আতংকে কারণে অন্যান্য লোকের অন্তর ঘাবড়ে গিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যাবে, কিন্তু দুই ঈদের রাত্রে জাগরণকারীর অন্তর তখন ঠিক থাকবে (তাবারানী, ফাযায়েলে রমজান, বেহেশতী জেওর)। সুতরাং ঈদের দিন রাতেও আমাদের বেশী বেশী ইবাদত-বন্দেগী করা দরবার। 
(লেখক: আরবী সাহিত্যিক ও মুহাদ্দিস, জামি’য়া ইসলামিয়া মারকাযুল উলূম, বাগমারা, খুলনা)

প্রিন্ট

আরও সংবাদ