খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৯ মার্চ ২০২৬ | ৪ চৈত্র ১৪৩২

মুর্মূর্ষু অবস্থায় ২ জন খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

মোংলায় চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ২১

মোংলা প্রতিনিধি |
০২:০৮ এ.এম | ১৯ মার্চ ২০২৬


মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি এলাকায় ৩০ বিঘার একটি চিংড়ি ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্র“পের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে কানাইনগর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ২১ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুই জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে এলাকা দুই গ্র“পের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।  
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা জানায়, কালিকাবাড়ি এলাকার ৩০ বিঘা আয়তনের একটি চিংড়ি ঘেরের দখল নিয়ে সেলিম ও জাকির গ্র“পের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্ব›দ্ব চলে আসছিল। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ জমির মূল মালিক সেলিম রেজা বাচ্চু ও মৃনাল নামের দুই জন। তবে পুরো জমিটি নিয়ে সেলিম রেজা বাচ্চু বহু দিন থেকে টালবাহানা করার কারণেই তার ‘কারসাজিতে’ এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। ২০২৫ সালে ওই চিংড়ি ঘেরটি বাচ্চুর কাছ থেকে লিজ (বাৎসরিক চুক্তি) নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন মোঃ সেলিম হাওলাদার। তবে বাচ্চু ও সেলিমের মধ্যে টাকার হিসাব নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে সেলিম হাওলাদারের হিসাব না মিটিয়ে ২০২৬ সালে সেই ঘেরটি জাকির গ্র“পকে লিজ দেয় সেলিম। আর সেই থেকেই এই ঘেরের লিজ নেওয়ায় পূর্বের চাষি ও বর্তমান দখলদারের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। বর্তমানে ঘেরটিতে দুই গ্র“পই বসবাস করছে এবং দখলে নেয়া চেষ্টা করছিল। 
বুধবার দুপুরে ওই চিংড়ি ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে সেলিম হাওলাদারের পক্ষে আঃ রশিদ গ্র“প ও জাকির গ্র“পের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষে কানাইনগর এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষে রশিদ গ্র“পের কাশেম, জাফর, ওহিদ, লাখী বেগম, জাহিদ, ফরিদ ও ওহিদুলসহ ১১ জন রক্তাক্ত জখম হয়। অন্যদিকে জাকির গ্র“পের মালেক, আলাম, আঃ সোরাপ ব্যাপারী, কালাম, ওসমান, আলামিন ও রোকেয়া বেগমসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। 
এ সময় আহতদের ডাক চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে দ্রুত উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর মধ্যে রশিদ গ্র“পের জাফর ও কাশেমের অবস্থা অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এক গ্র“পের প্রধান জাকির আ’লীগের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি এবং দীর্ঘদিন সে বন্দরের বাণিজ্যিক জাহাজের চোরাকারবারের সাথে যুক্ত এবং আজ তার হাতের দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে প্রায় ৮-১০ রক্তাক্ত জখম হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই চিংড়ি ঘেরটি নিয়ে দীর্ঘদিন কয়েক বছর যাবত দুই গ্র“পের মধ্যে দন্ধ চলে আসছিল, যার নেপথ্যে সেলিম রেজা বাচ্চু পরামর্শেই আজ এ সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে দাবি স্থানীয়দের।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ বুলেট সেন জানান, দুপুরের পর দুই পক্ষের প্রায় ১৮ থেকে ২০ জন মারামারির রোগী মোংলা হাসপাতালে এসেছে। এ থেকে ১২ জনকে ভর্তি করা হয়েছে এবং দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের মধ্যেও যদি কেউ গুরুতর হয় তাকেও খুলনায় পাঠানো হবে।  
মোংলা থানার ওসি তদন্ত মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ সংঘর্ষে জমির মালিক বাচ্চুর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে পুরো কানাইনগর এলাকায় থমথমে অবস্থা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলেও পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর মোংলা উপজেলায় প্রায় ৭৫টি মাছের ঘের দখলের ঘটনা ঘটেছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ