খুলনা | শুক্রবার | ২০ মার্চ ২০২৬ | ৫ চৈত্র ১৪৩২

চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজিদের নির্দেশে হত্যা করা হয় টিকটকার রাকিবকে

খবর প্রতিবেদন |
০৪:০৩ পি.এম | ১৯ মার্চ ২০২৬

 

রাজধানীর শহীদ মিনার এলাকায় টিকটকার রাকিবুল ইসলাম রাকিব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজিদের নির্দেশে এবং কুখ্যাত ‘বি কোম্পানি’র নেতৃত্বে এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। পরকীয়া ও নারীঘটিত বিরোধের চরম প্রতিশোধ নিতেই রাকিবকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে অপরাধী চক্র।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এই খুনের পেছনে প্রধানত দুটি নারীঘটিত কারণ কাজ করেছে: নিহত রাকিব সাফা নামে এক বিবাহিত নারীকে পুনরায় বিয়ে করেন, যা অপরাধী চক্রের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজিদের স্ত্রী ও জনপ্রিয় টিকটকার জান্নাত মুনের সঙ্গে রাকিবের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। এই অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে সাজিদ ঢাকা ও খুলনার সন্ত্রাসীদের নিয়ে রাকিবকে হত্যার চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে।

ডিসি মাসুদ আলম জানান, কিলিং মিশনটি ছিল অত্যন্ত সুসংগঠিত। ঘটনার ৩-৪ দিন আগেই খুলনা থেকে পেশাদার ভাড়াটে খুনিরা ঢাকায় আসে। তারা ফাইভ স্টার হোটেল সোনারগাঁওসহ রাজধানীর কয়েকটি অভিজাত হোটেলে অবস্থান করে হামলার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে। এরপর বেশ কয়েকদিন ধরে চলে রাকিবের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ বা ‘ফলো’ করা।

এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ প্রথমে সিহাব, রাফিন, জয় ও সাগর ফকিরকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে এই মিশনের মূল সমন্বয়ক ও কুখ্যাত বি কোম্পানির শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিন ওরফে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সালাউদ্দিনই সরাসরি এই কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, “আমরা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি উদ্ধার করেছি। সাজিদ তার ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে পেশাদার খুনিদের ব্যবহার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

প্রিন্ট

আরও সংবাদ