খুলনা | শনিবার | ২১ মার্চ ২০২৬ | ৭ চৈত্র ১৪৩২

পবিত্র ঈদুল ফিতর আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০৬:৪৩ এ.এম | ২১ মার্চ ২০২৬

 

এক মাসের সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগির পর আজ শনিবার (২১ মার্চ) দেশজুড়ে উদযাপিত হবে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন রাজধানীসহ সারা দেশের লাখ লাখ মুসল্লি। বৈরী আবহাওয়ার শঙ্কা থাকলেও জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের প্রতিটি বড় ময়দান ও মসজিদে সম্পন্ন হয়েছে জামাতের সকল আয়োজন।

এবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। তবে আবহাওয়ার বৈরিতা বা অনিবার্য কোনো কারণে এই জামাত সম্ভব না হলে, সকাল ৯টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। তার অনুপস্থিতিতে বিকল্প ইমাম হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশবাসীর সঙ্গে ঈদ জামাতে শরিক হবেন।

বৈরী আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম ঢাকাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধান জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এবারের জামাতে ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লিও অংশ নিতে পারবেন। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের সংরক্ষিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ মুসল্লিদের জন্য পর্যাপ্ত ওজুখানা ও জরুরি প্রয়োজনে মেডিকেল টিমের সুবিধাও রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। তবুও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। পুরো ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষা ভবন মোড়ে ব্যারিকেড দেওয়া থাকবে, যাতে কোনো যানবাহন ঈদগাহ এলাকায় প্রবেশ করতে না পারে। প্রবেশমুখে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহারের পাশাপাশি সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সুইপিং টিম মোতায়েন থাকবে। প্রধান জামাতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতিগণ, মন্ত্রিসভার সদস্য ও মুসলিম বিশ্বের কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে (চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন) সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এই জামাতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রশাসক জানান, মুসল্লিদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদগাহে প্রবেশের জন্য তিনটি গেট রাখা হয়েছে এবং নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও মুসল্লিদের সুবিধার্থে ওজুর সুব্যবস্থাও থাকছে।

আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুরো এলাকায় বিশেষ নজরদারি থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ডিএনসিসি-র এই কেন্দ্রীয় ঈদ জামাতকে ঘিরে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে।

বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের ৫টি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম জামাতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় জামাতে পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন, চতুর্থ জামাতে ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় বিকল্প ইমাম হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মাওলানা শহীদুল ইসলাম প্রস্তুত থাকবেন।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ঈদের জামাত

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার, চিফ হুইপ, হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মুসল্লিরা এই জামাতে অংশ নেবেন। জামাত সবার জন্য উন্মুক্ত। আগ্রহী মুসল্লিদের অংশগ্রহণের জন্য সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

খুলনা : খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ঈদ-উল-ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল আটটায়। দ্বিতীয় জামাত সকাল নয়টায় ও তৃতীয় জামাত সকাল ১০টায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিক‚ল থাকলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল আটটায় প্রথম জামাত, নয়টায় দ্বিতীয় এবং সকাল ১০টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদে এবং বয়রা মডেল মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

খালিশপুর ঈদগাহ ময়দান এবং বসুপাড়া ইসলামাবাদ ঈদগাহ ময়দানে সকাল আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বায়তুন ন‚র জামে মসজিদে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের দু’টি জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত ১ম জামায়াতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ইমরান উল্লাহ এবং সকাল ৯টা অনুষ্ঠিত ২য় জামায়াতে ইমামতি করবেন মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাতে এবার মহিলাদের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের জামাত সকাল সকাল সাড়ে ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হবে।

নগরীর শান্তিধাম মোড়ে আল-হেরা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। খুলনার জাতিসংঘ শিশু পার্কে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। আব্দুর রাজ্জাক জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ময়লাপোতা মোড়ে বায়তুল আমান জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রথম এবং সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। মোল্লাপাড়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং ওয়ার্ডভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তত্ত¡াবধানে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথকভাবে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও সংশ্লিষ্ট কমিটি নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী জামাতের সময় নির্ধারণ করবে।

ঈদ উপলক্ষে নগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মহানগর ও আশপাশের গুরুত্বপ‚র্ণ এলাকায় টহল জোরদার করবে। একই সঙ্গে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল বসানো, উচ্চস্বরে মাইক বা ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছেটানো এবং বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঈদ উদযাপন উপলক্ষ্যে দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাস, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয় কেন্দ্র, সেফ হোম, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, দুস্থ কল্যাণ ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে উন্নত মানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ