খুলনা | রবিবার | ২২ মার্চ ২০২৬ | ৮ চৈত্র ১৪৩২

আদালতে তোলা হলো হাদি হত্যার দুই আসামিকে, নির্দোষ দাবি ফয়সালের

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৮ পি.এম | ২২ মার্চ ২০২৬

 

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার বিধাননগর আদালতে তোলা হয়েছে। আদালতের ফটকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল দাবি করেছেন, তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না।

রোববার (২২ মার্চ) সকালে আদালতে তোলা হয় হাদি হত্যার দুই আসামিকে।

এ সময় সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।’

তাকে এই ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে কি না- এমন প্রশ্ন করা হলে অবশ্য কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। এ সময় ফয়সাল কথা বললেও চুপ ছিলেন আলমগীর।

গত ৭ মার্চ রাতে ফয়সাল এবং আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ। ৮ মার্চ তাদের স্থানীয় আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেন বিচারক।

এর আগে গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) ওসমান হাদি হত্যা মামলায় বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজত দিয়েছেন আদালত। এ সময়কালে তাকে জেলে গিয়ে জেরা করতে পারবে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। আবার তাকে ৩ এপ্রিল আদালতে তোলা হবে।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মতিঝিল মসজিদ থেকে জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি চলন্ত অবস্থায় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

সে সময় গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

এ হত্যাকাণ্ডের ১৮ দিন পর রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে আসামিরা অবৈধ পথে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে প্রবেশ করেছেন।

হাদির মৃত্যুর পর হওয়া মামলায় পলাতক থাকা ফয়সাল করিমের মা-বাবা ও স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে পুলিশে। তাদের মধ্যে ছয়জন আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং চারজন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তবে অধরা ছিলেন হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল। তিনিই হাদিকে গুলি করেছিলেন বলে জানা যায়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ