খুলনা | মঙ্গলবার | ২৪ মার্চ ২০২৬ | ১০ চৈত্র ১৪৩২

শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির সাপোর্টে ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

খবর প্রতিবেদন |
০২:২৭ পি.এম | ২৪ মার্চ ২০২৬

 

বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের পথ সুগম করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের ব্যাংক সলভেন্সি বা ব্যাংক গ্যারান্টির দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জাপান, কোরিয়া, চীন ও জার্মানির মতো উন্নত দেশগুলোতে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বড় একটি বাধা হলো ব্যাংক সলভেন্সি বা গ্যারান্টি দেখানো। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন সরকারি মালিকানাধীন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশ যাওয়ার পথ আরও সহজ হবে এবং তারা আর্থিক নিশ্চয়তা পাবেন।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, যুদ্ধের ফলে অবকাঠামোগত যে ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্গঠনে ভবিষ্যতে প্রচুর জনশক্তির প্রয়োজন হবে। এটি বাংলাদেশের জন্য বড় একটি সম্ভাবনা। তবে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ভাষা শিক্ষার ওপর। তিনি জানান, আমাদের কর্মীরা ভাষা না জানার কারণে কম বেতনের কাজ করে। তৃতীয় কোনো ভাষা (যেমন- জাপানি বা জার্মান) শিখলে তারা অনেক ভালো বেতন ও সম্মানজনক চাকরি নিশ্চিত করতে পারবেন।

বর্তমানে ইউরোপের অনেক দেশের ভিসার জন্য বাংলাদেশিদের ভারতে যেতে হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। প্রধানমন্ত্রী এই ভোগান্তি কমাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন যেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলো বাংলাদেশে তাদের কনস্যুলার সেবা বা অফিস নিশ্চিত করে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু দেশ এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এছাড়া জাপানে ১ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকার আগামী ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় অভিবাসন ব্যয় সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে, যাতে শ্রমিকরা দালালের খপ্পরে না পড়েন। মালয়েশিয়াসহ যেসব শ্রমবাজার বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেগুলো পুনরায় চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া থাইল্যান্ডসহ ইউরোপের নতুন নতুন দেশের সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করে জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরির কাজ চলছে।

যুদ্ধের কারণে রেমিট্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, সাময়িক কিছুটা প্রভাব পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে কোনো সমস্যা হবে না। বরং যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে। তিনি সরকারের এসব ইতিবাচক কর্মকাণ্ড ও সুযোগ-সুবিধার খবর সোশ্যাল মিডিয়া ও মূলধারার গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ারও তাগিদ দেন

প্রিন্ট

আরও সংবাদ