খুলনা | বুধবার | ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১০ চৈত্র ১৪৩২

কালীগঞ্জে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট: চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ

ঝিনাইদহ (কালীগঞ্জ) প্রতিনিধি |
০৪:০৭ পি.এম | ২৪ মার্চ ২০২৬


ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১১টি পেট্রোল পাম্পে সরবরাহ নেই এমন অজুহাতে সাধারণ গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হলেও, একই তেল খোলা বাজারে বোতলজাত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মার্চ থেকে এলাকায় তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মোটরসাইকেল আরোহীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। পাম্পে তেল না পেয়ে তারা বাধ্য হচ্ছেন রাস্তার পাশে ও গ্রামাঞ্চলের অবৈধ দোকান থেকে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে তেল কিনতে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে ড্রামভর্তি অবস্থায় বাইরে নিয়ে গিয়ে বোতলজাত করে প্রতি লিটার পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে।

ঢাকাগামী এক মোটরসাইকেল আরোহী গোলাম আজম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পাম্পে তেল নেই বলা হলেও রাতে অনেকেই ড্রামভর্তি তেল নিয়ে বাইরে বিক্রি করছে। এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অধিক মুনাফার আশায় এই পরিস্থিতি তৈরি করছে।

পাম্প মালিকরা অবশ্য ডিপো থেকে সরবরাহ কম থাকার কথা উল্লেখ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দেশে তেলের প্রকৃত কোনো সংকট নেই; বরং কৃত্রিমভাবে সংকট সৃষ্টি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে।

প্রতিদিন সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর অল্প পরিমাণ তেল দেওয়া হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই মেশিন বিকল বা তেল শেষ, এমন অজুহাতে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

এদিকে অতিরিক্ত দামে তেল কিনে পরিবহন চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকেও বেশি ভাড়া আদায় করছেন, যা জনভোগান্তি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তারা অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, কোনো পাম্প মালিক তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, ঘোষণার বাইরে বাস্তবেও যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সংকট নিরসন করা হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ