খুলনা | বুধবার | ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১০ চৈত্র ১৪৩২

তেল সংকটের পিছনে চার কারণ # এপ্রিলে সংকট কাটার সম্ভাবনা # খুলনা বিভাগের দশটিসহ পার্শ্ববর্তী ১৫টি জেলায় হচ্ছে না পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ

জ্বালানী তেল সংকট নগরীতে পেট্রোল পাম্পে যানবাহনে উপচেপড়া ভীড়

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫০ এ.এম | ২৫ মার্চ ২০২৬



খুলনা বিভাগের দশটি জেলাসহ পার্শ্ববর্তী ১৫টি জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। খুলনা নগরীতে অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা এবং যমুনার ডিপো থেকেও চাহিদা মত তেল না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ঈদের ছুটিতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে  তেল বিক্রি না করায় হ য ব র ল অবস্থার সৃষ্টি হয়। মূলত চারটি কারণে খুলনার নগরীসহ ১৫টি জেলায় তেল নিয়ে তেলেসমতির ঘটনা ঘটেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি এপ্রিল মাসেই তেলের এই সংকট কেটে যাবে। 
এদিকে মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় তেল সংকটের কারণে পেট্রোল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অধিকাংশ পাম্পেই ‘তেল নেই’ লেখা ঝুলতে দেখা যায়। যেসব পাম্পে অল্প পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে মজুদ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক পাম্পে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সীমিত পরিমাণে তেল সরবরাহের কারণে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২লিটার এবং প্রাইভেটকারে ১০ লিটার করে দেওয়া হলেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।
চার কারণ : বহির্বিশ্বে যুদ্ধের কারণে সারা দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও তেলের সংকট রয়েছে। ঈদকে কেন্দ্র করে চারটি কারণে খুলনা বিভাগের ১০ জেলাসহ ১৫টি জেলায় তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রথমত সরকারি ডিপোগুলো থেকে এজেন্ট, ডিলার এবং প্যাকড পয়েন্ট গুলোতে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না করা,  দ্বিতীয়ত ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা পে-অর্ডার করতে না পারা, তৃতীয়ত পেট্রোল পাম্প গুলো থেকে সেচ এবং মেরিনের তেল সরবরাহ করা এবং ঈদকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে ব্যক্তিগত গাড়ি আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় মূলত তেল সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া অনেকে অবৈধভাবে তেল মজুদ এবং মোটরবাইকের মালিকরা  প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত তেল পেট্রোল পামগুলো থেকে সংগ্রহ করে  অল্প কিছু টাকা লাভের বিনিময়ে অন্যত্র তেল বিক্রি করার কারণেও তেলের সংকটের কারণ এর মধ্যে রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে চালকদের। ঈদের আগ থেকেই শুরু হওয়া এ সংকট এখনো অব্যাহত রয়েছে।
নগরীর নিউ মার্কেট এলাকার মেট্রোপলিটন ফিলিং স্টেশনে গতকাল সন্ধ্যায় গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শতাধিক মোটরসাইকেলচালক। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও হাইয়েস মিলিয়ে প্রায় ১৫টি যানবাহন অপেক্ষায় ছিল।
এক প্রাইভেটকার চালক বলেন, প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি মাত্র ১০লিটার অকটেন সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এসময় পাম্পের আশপাশে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং লাইনের র্দৈঘ্য প্রায় জোড়াগেট এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। যা অন্তত এক-চতুর্থাংশ কিলোমিটার।
অন্যদিকে, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মেসার্স গোলাম হোসেন ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
এম. মোর্শেদ নামের এক মোটরসাইকেলচালক জানান, নগরীর বৈকালীর একটি পাম্পে তুলনামূলক কম ভিড় থাকায় তিনি সেখান থেকেই নিয়মিত তেল নেন। তবে খুলনা থেকে আড়ংঘাটা পর্যন্ত প্রায় সব পাম্পেই একই চিত্র-দীর্ঘ লাইন ও তীব্র ভিড়। তেল সংকটের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
নগরীর দৌলতপুর বাজারের ব্যবসায়ী পিয়াল জানায়, ঈদের পর দিনগুলোতেই অনেক পেট্রোল পাম্পে মোটরসাইকেলের তেল দেয়নি। তবে আজ দুপুরের পর থেকে কয়েকটা পেট্রোল পাম্প পেয়ে তেল দিচ্ছে। তবে সেটা নির্দিষ্ট পরিমাণে ২০০ থেকে আড়াইশ’ টাকার ভিতর নিতে হচ্ছে। 
সাউথ সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা তাজ জানায়, মিডিয়ায় দেখছি তেলের সংকট নেই। অথচ পেট্রোল পাম্প গুলোতে তেল দিচ্ছে না। সোমবার তো অনেক পেট্রোল পাম্প তেলই ছিল না। আজকে আজকে দেখছি সব পেট্রোল পাম্পেই কমবেশি তেল দিচ্ছে। তেলের দাম খুব দ্রুত বেড়ে যাবে এই কারণে অনেকেই অগ্রিম তেল মজুদ করছে। 
খুলনার পেট্রোল পাম্প মালিক এ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা  জানান, সরকারি তেলের যে ডিপোগুলো রয়েছে তারা এজেন্ট ও ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল  দিতে পারছে না। পেট্রোল পাম্প গুলোতে শুধুমাত্র তেল দেয়া হচ্ছে। তাও রেশনিং ব্যবস্থায়। আবার পেট্রোল পাম্প গুলো থেকেই সেচের কাজের জন্য  এবং মেরিন সচল রাখার জন্য তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ঈদের ছুটির কারণে ব্যাংক বন্ধ থাকায় অনেক পেট্রোল পাম্প মালিক পে অর্ডার না করতে পারায় তেল সংগ্রহ করতে পারেনি ডিপগুলো থেকে। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে যানবাহনের সংখ্যাও বেড়ে যায় তেলের চাহিদাও বেড়েছে। এপ্রিল মাসে তেলের মূল্য বাড়তে পারে। এরপর হয়তো পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে। 
এদিকে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ডিপোর বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ১৫টি জেলায় যে পরিমাণ পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল প্রয়োজন সেই পরিমাণ সরবরাহ নেই। প্রতিনিয়ত যানবহন বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়ছে এবং সেই সাথে সাথে জ্বালানি তেলের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু বর্হিবিশ্বের যুদ্ধসহ নানান কারণে তেল চাহিদা অনুযায়ী এজেন্ট, ডিলার ও পয়েন্ট গুলোতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। সরকারের নির্দেশনা মেনে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ সহ পেট্রোল পাম্প গুলোতেও নির্দিষ্ট লিমিটে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ