খুলনা | সোমবার | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে ৬ কোটি মানুষ

|
১২:১২ এ.এম | ২৯ নভেম্বর ২০২৫


বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য মূল্যায়ন ২০২৫’ প্রতিবেদনে যে উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে, তা আমাদের নীতিনির্ধারক ও সুশীল সমাজকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। গবেষণায় উঠে এসেছে, দেশের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ বা ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই ঝুঁকিকে আরও প্রকট করেছে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের অভাব এবং আয়বৈষম্যের মতো বহুমাত্রিক সমস্যাগুলো। প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৬ সালের পর থেকে প্রবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে কম অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়ায় এর সুফল মূলত ধনীরাই ভোগ করেছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে স্থবিরতা, বিশেষ করে ২০২২ থেকে ২০২৫ সময়ে প্রায় ২৮ লাখ কর্মসংস্থান কমার আশঙ্কা, নারী ও তরুণদের ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। দেখা যাচ্ছে, অতি দরিদ্রদের মজুরি বৃদ্ধির তুলনায় দ্রব্যমূল্য দ্রুত বাড়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ফলে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ২২.২ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ২০২২-২০২৫ সময়কালকে ‘উল্টো ঘুরে যাওয়ার সময়কাল’ হিসাবে দেখতে হবে। বিশেষত, গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়া এবং উৎপাদনশীল খাতে স্থবিরতা থাকা সত্তে¡ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অদক্ষ ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাভোগীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশই ধনী পরিবার; কিন্তু অতি দরিদ্র পরিবারের অর্ধেকও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মতো ভর্তুকিগুলোও অপেক্ষাকৃত ধনীরাই বেশি পাচ্ছে। আমরা মনে করি, দারিদ্র্য বিমোচনকে টেকসই করতে হলে কেবল সাময়িক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন জরুরি। বিশ্বব্যাংকের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে, মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে হবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে হবে। বিশেষত উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থানের ভিত্তি মজবুত করা এবং লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিশ্চিত করা আশু প্রয়োজন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কৃষি খাতের আধুনিকীকরণ, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ এবং শিক্ষা, বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার প্রসারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভুলে গেলে চলবে না, এ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের মানসিক দৃঢ়তা। আমাদের এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে অবশ্যই সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতি দূর করতে হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অবশ্যই দরকার; কিন্তু সেই প্রবৃদ্ধি যেন সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়-আমাদের গণতান্ত্রিক এজেন্ডা এটাই হওয়া উচিত। দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমাতে একটি সমন্বিত ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক কৌশল গ্রহণ করবে সরকার, এটাই প্রত্যাশা।

্রিন্ট

আরও সংবদ