খুলনা | বুধবার | ২৫ মার্চ ২০২৬ | ১১ চৈত্র ১৪৩২

কৃষক লীগ নেতার শর্টগানের গুলিতে ছোট ভাই খুন

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪০ পি.এম | ২৫ মার্চ ২০২৬

 

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে বড় ভাই ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি চিকিৎসক গোলাম কবিরের (৭১) বিরুদ্ধে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের পাশে চতুল রেললাইন লাগোয়া ইটের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার ছোট ভাইয়ের নাম মিন্টু মোল্লা (৫৭)। গোলাম কবির ও মিন্টু মোল্লা ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের চতুল গ্রামের বাসিন্দা মৃত মো. ইসহাক মিয়ার ছেলে।

গোলাম কবির কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপকমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সাবেক সদস্য। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং পেশায় চিকিৎসক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালি উপজেলা) আসনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত গোলাম কবিরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই ভাই গোলাম কবির ও মিন্টু মোল্লার মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে। আজ বুধবার সকালে মিন্টু মোল্লা তার বাড়ির পাশের একটি গাছ কাটতে গেলে গোলাম কবির সেখানে উপস্থিত হয়ে বাধা দেন। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে গোলাম কবির তার লাইসেন্সকৃত শর্টগান দিয়ে গুলি চালান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোলাম কবির কৌশলে কথা বলার জন্য তার ভাই মিন্টুকে গাছ কাটার জায়গা থেকে আরেকটু দূরে বোয়ালমারী ফায়ার সার্ভিসের পেছনের রেলগেট এলাকায় ডেকে নিয়ে গিয়ে গলার নিচে ও বুকে পরপর ছয় রাউন্ড গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মিন্টু লুটিয়ে পড়লে গুলির শব্দ শুনে স্থানীয়রা এসে এ ঘটনা দেখেন। পরে গোলাম কবিরকে আটক করে পুলিশে দেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযুক্ত গোলাম কবিরকে আটক করা হয়েছে এবং তার ব্যবহৃত অস্ত্রটিও জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গোলাম কবির আগে সরকারি চাকরি করলেও বর্তমানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পাশাপাশি ফরিদপুর শহরের পূর্ব খাবাসপুর মহল্লায় ‘গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এটির চেয়ারম্যান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে মাহবুবা কবির ও হোসনে আরা বেগম নামে তার দুইজন স্ত্রী রয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ৬ জুলাই গোলাম কবির বোয়ালমারী উপজেলা সদরের চৌরাস্তাসংলগ্ন খান প্লাজার চতুর্থ তলা ভাড়া নিয়ে ‘ডা. গোলাম কবির নার্সিং ইনস্টিটিউট’ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালাতেন। তখন ভাড়া না দিয়ে ভবন দখল করে রাখার অভিযোগে ওই ভবনের মালিক সালমা বেগমের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ান। পরে সালমা বেগমকে এই শর্টগান দিয়ে গুলি করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা আটক করে তাকে পুলিশে দিয়েছিলেন।

বর্তমানে গোলাম কবিরের নামে ফরিদপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মারামারি, অস্ত্র ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ ফৌজদারি অপরাধের ১২টি ধারায় দুটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. রকিবুল হাসান বলেন, আলমগীর কবিরের অস্ত্রটি বৈধ ছিল। এটি নির্বাচনের সময় তিনি জমা দিয়েছিলেন। তবে এটি কবে আবার ফেরত নিয়েছেন, তা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বলতে পারবে। এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ