খুলনা | সোমবার | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

জীবন সংকটে খালেদা জিয়া আশু রোগ মুক্তির প্রার্থনা

|
১২:১৫ এ.এম | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫


বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অবিচ্ছেদ্য নাম, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি এক কঠিন সময় পার করছেন। ফুসফুসে সংক্রমণসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার ৮০ বছরের জীবনে নানা রোগ বাসা বেঁধেছে, যা তার বর্তমান অবস্থাকে অত্যন্ত সংকটময় করে তুলেছে। এই মুহূর্তে দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে তার সুস্থতার জন্য গভীর উদ্বেগ ও প্রার্থনা।
গণতন্ত্রের সংগ্রামে খালেদা জিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দেশের প্রতি তার অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আপসহীন নেতৃত্বের এমন উদাহরণ এ উপমহাদেশে বিরল। প্রায় দেড় যুগের কারাবরণ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, সন্দেহ নেই তাকে দেশের জনসাধারণের কাছে এক সংগ্রামী নেত্রী হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এমন একজন নেত্রির শারীরিক অসুস্থতা নিঃসন্দেহে পুরো জাতিকে ব্যথিত করেছে। তার দ্রুত সুস্থতা কেবল তার পরিবার বা দলের জন্য নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন হলেও একজন সরকারপ্রধানের জাতির প্রতি এমন বার্তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক দিক। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। এই মানবিক উদ্যোগ রাজনীতিতে সৌহার্দ্য ও সহমর্মিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মনে করি আমরা। একইসঙ্গে, বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশবাসীর কাছে দোয়া অব্যাহত রাখার আহŸান জানিয়েছেন। এই সংকটময় মুহূর্তে দল-মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রার্থনা যে অত্যন্ত জরুরি, তা বলাই বাহুল্য। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকদের বক্তব্য এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উদ্বেগ-তার শারীরিক সংকটময় পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। ফুসফুসের সংক্রমণ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস এবং কিডনি জটিলতা-এসব একসঙ্গে একজন ৮০ বছর বয়সি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুতর। কিন্তু তার সংগ্রামী জীবন এবং দৃঢ় মনোবল আমাদের আশাবাদী করে তোলে যে, তিনি এই কঠিন পরীক্ষাতেও জয়ী হবেন।
এই মুহূর্তে, আমাদের সবার কর্তব্য হলো তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করা। ব্যক্তিগত মতপার্থক্য বা রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে, একজন বয়োজ্যেষ্ঠ এবং দেশের এক সময়ের সফল কাণ্ডারি নেত্রীর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে সুস্থতা চাওয়া উচিত। এটি কেবল এক মানবিক আবেদনই নয়, বরং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতেও এটি এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আমরা বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রার্থনা এবং উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন। তিনি আবার জনগণের মাঝে ফিরে এসে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ পাবেন। তার সুস্বাস্থ্য দেশের গণতন্ত্র ও অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই কঠিন সময়ে আমরা তার দ্রুত রোগমুক্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

্রিন্ট

আরও সংবদ