খুলনা | সোমবার | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ | ১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

বাংলাদেশ আমদানি বন্ধে বিপাকে ভারতের রপ্তানিকারীরা

সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ, কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ রুপিতে

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৯ এ.এম | ০১ ডিসেম্বর ২০২৫


বাংলাদেশ আমদানি বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিকারীরা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলায় পচে যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ।
পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার সঙ্গে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত আছে। মালদহের মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে, (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ টাকা ৭৩ পয়সা) এবং ৫০ কেজির এক একটি বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৬ টাকা)।
মালদার স্থানীয় বাজারে যদিও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মাহাদিপুরে চলছে এই অবস্থা।
ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারীরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন তারা। কিন্তু এখন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা সেই পেঁয়াজ নিচ্ছেন না।
মালদহের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী এবং রপ্তানিকারক সিরাজুল শেখ বলেছেন, “বছরের এই সময়ে সাধারণত বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এই দিক আমলে নিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ ৫০ ট্রাক, কেউ ৭০ ট্রাক এবং কেউ তার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ মজুত করেছে। এসব পেঁয়াজ ইন্দোর এবং নাসিক (ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের দুই জেলা) থেকে আনা হয়েছে। কিন্তু এখন সেগুলো পচছে এবং আমরা ২, ৬,৮ অথবা ১০ রুপিতে স্থানীয় বাজাারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের পেঁয়াজের দাম তো উঠবেই না, ইন্দোর-নাসিক থেকে পেঁয়াজ আনতে যে তেলখরচ হয়েছে-তা ও উঠবে না।”
আরেক রপ্তানিকারী জাকিরুল ইসলাম বলেন, “দু’মাস আগেও যখন আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল সেসময় আমি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতাম। এখন আমার ট্রাকগুলোর পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে এবং নামমাত্র মূল্যে সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।”
মালদহ জেলার মাহদিপুর সীমান্তের ব্যবসায়ী মোহম্মদ রুবেল হোসেন জানান, বাংলাদেশ থেকে পেঁয়াজ রপ্তানির বরাত পেয়েই আমরা মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে পেঁয়াজ নিয়ে আসি। কিন্তু বন্দরে আসার পরেই হঠাৎ জানতে পারি, বাংলাদেশে আর পেঁয়াজ রপ্তানি করা যাবে না। ফলে পচে যাওয়া ভয়ে সেই পেঁয়াজ পানির দরে বিক্রি করে দিতে হচ্ছে।
যদিও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ঘোজাডাঙ্গা এবং পেট্রাপোল স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা সেভাবে পেঁয়াজ মজুত করেনি। ফলে তারা কিছুটা রেহাই পেয়েছেন। পেট্রাপোল স্থলবন্দরের ক্লিয়ারিং এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার এ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, এই মুহূর্তে পেট্রাপোল এবং ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দরে পেঁয়াজ ভর্তি ট্রাক দাঁড়ানো নেই।
মালদহের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানিকারক-ব্যবসায়ীরা একটি নোটিশ জারি করেছেন। সেই নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত কৃষ্টি স¤প্রসারণ বিভাগ সাময়িকভাবে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তারপর থেকে চলছে এই অবস্থা।
পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানীকারকদের সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির মহাসচিব উজ্জল সাহা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিলেনিয়াম পোস্টকে বলেছেন, “বাংলাদেমে পেঁয়াজ রপ্তানি খাতে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবাসয়ীরা সীমান্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ রুপিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা একটি অকল্পনীয় লোকসান। যদি শিগগিরই সীমান্ত খুলে দেওয়া ন হয়, তাহলে অনেক রপ্তানিকারক সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন।” 
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে তুলনামূলক ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫ থেকে ৩০ রুপিতে। কলকাতার এক পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা দ্বীপ বর্মন জানান, এখানে হয়তো খুচরা পেঁয়াজের দাম একটু বেশি। গোডাউনের পেঁয়াজগুলো বাইরে আসলেই এই দাম আরও কমে যেতে পারে।
কলকাতার এক পাইকারি পেঁয়াজ বিক্রেতা দ্বীপ বর্মন জানান, এখানে হয়তো খুচরা পেঁয়াজের দাম একটু বেশি। গোডাউনের পেঁয়াজগুলো বাইরে আসলেই এই দাম আরও কমে যেতে পারে। 
সূত্র : মিলেনিয়াম পোস্ট, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

্রিন্ট

আরও সংবদ