খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১২ চৈত্র ১৪৩২

দেবহাটার নওয়াপাড়ায় শিশু সুরক্ষা ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে সভা

দেবহাটা প্রতিনিধি |
১১:৪৭ পি.এম | ২৫ মার্চ ২০২৬


শিশুদের অংশগ্রহণে শক্তিশালী শিশু সুরক্ষা ও শিশুশ্রম প্রতিরোধে নিরাপদ সমাজ গঠনে অবহিতকরণ সভা বুধবার উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রামের আয়োজনে এবং সুশীলনের বাস্তবায়নে সভায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোনায়েম হোসেন সভাপতিত্ব করেন। 
বক্তব্য দেন দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম, ইউপি সদস্য মাহামুদ হোসেন, ইউপি সদস্য খাদিজা পারভীন কনা, শিশু সুরক্ষা কমিটির সভাপতি সালাউদ্দীন আহমেদ প্রমুখ। সুশীলনের সিডিও নিলাদ্রী বিশ্বাসের পরিচালনায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিডিও মিজানুর রহমান। এতে ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, অভিভাবক, চাইল্ড ফোরাম, যুব, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। 
সভায় শিশুশ্রমের কুফল তুলে ধরে বক্তারা বলেন শিশুশ্রমের কুফল অত্যন্ত ভয়াবহ, যা শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও মেধাবিকাশ ব্যাহত করে এবং তাদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেয়। এটি অশিক্ষা, অপুষ্টি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং সামাজিক শোষণের শিকার করে। বিশেষ করে ভারী কাজের ফলে শারীরিক বৃদ্ধি কমে যায় এবং মানসিক চাপ বা শোষণের শিকার হয়ে তারা বিষণœতা ও ভয়ের মধ্যে বেড়ে ওঠে। বিদ্যালয়ের পরিবর্তে কাজের স্থানে সময় কাটানোর ফলে তারা শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হয়। কলকারখানা, গ্যারেজ বা পাথরের ভাঙার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত শিশুরা দীর্ঘস্থায়ী রোগ, শ্বাসকষ্ট এবং দুর্ঘটনার শিকার হয়। শিশুশ্রমের কারণে তারা অশিক্ষিত থেকে যায়, ফলে ভবিষ্যতে ভালো আয়ের সুযোগ পায় না এবং দরিদ্র রয়ে যায়। অল্প বয়সে কাজ করতে গিয়ে তারা নানাভাবে, এমনকি যৌন বা শারীরিক সহিংসতার শিকার হয়। পাশাপাশি শিশুশ্রম প্রতিরোধে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়। যার মধ্যে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাড়াতে হবে, উপানুষ্ঠানিক ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করে ঝরে পড়া শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে হবে,  শিশুশ্রম আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন ও আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনা, শিশুশ্রমের নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে পরিবার, সমাজ ও মালিকপক্ষকে সচেতন করা, শিশুশ্রমিক নিয়োগের বিরুদ্ধে কমিউনিটি ভিত্তিক নজরদারি জোরদার করা এবং “শিশুশ্রম নয়, শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময়” স্লোগান ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশুশ্রম নিরসনে সরকার, বেসরকারি সংস্থা, নিয়োগকর্তা এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে জানানো হয়। 
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ