খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১১ চৈত্র ১৪৩২

দৌলতদিয়ায় ডুবে যাওয়া বাস ও ১৬ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ আরও অনেকে

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৯ এ.এম | ২৬ মার্চ ২০২৬

 

রাজধাবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার সাত ঘণ্টা পর বাসটি উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’। একইসঙ্গে নারী ও শিশুসহ ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। এরমধ্যে ১০ জন নারী, ৪ জন পুরুষ ও ২ জনের শিশু রয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাত ১২টার দিকে প্রায় ৬ ঘণ্টার পর উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার ক্রেন দিয়ে বাসটি উপরে তোলা হলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করতে দেখা যায়।

বাসটি উদ্ধার করে উপরে তোলার পর এর দরজা ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। ভেতর থেকে স্কুলব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে উঠছে। উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে ঘটনাস্থলে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, আরও অনেক যাত্রী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে ডুবুরি দল নিরলস কাজ করছেন। পাশাপাশি কাজ করছে কোস্ট গার্ড এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরাও। এছাড়া দায়িত্ব পালন করছে স্থানীয় প্রশাসন ও নৌপুলিশ।

এর আগে বুধবার (২৬ মার্চ) বিকেলে দৌলতদিয়া ঘাটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস প্রায় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেরির ওপর থেকে পানিতে পড়ে যায়। সেই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক মাধ্যমে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, উদ্ধার করা বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জন নারী। 

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে শনাক্ত হওয়া নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালীর মৃত কাশেম আলীর ছেলে আব্দুর রহমান (৪৫), একই এলাকার মো. ফারুক হোসেনের স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩২), রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাসিন্দা সাজেদা খাতুন (৫০) এবং ইমন (১২) নামের এক কিশোর। আহতদের মধ্যে কামাল হোসেন (৩৮), সুমি আক্তার (২৫), বিপ্লব মণ্ডল (৪০) ও শিশু রাফি (৭) গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজন আহত ব্যক্তিও সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাপস কুমার পাল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে সেটি ৫০ থেকে ৫৫ জনের মধ্যে হতে পারে।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডার মো. বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ৪০ জনের মতো যাত্রী পানির নিচে রয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস-কোস্ট গার্ডের ডুবুরি দলের তল্লাশি চলছে। এছাড়া পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দলও উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে।

এদিকে ভয়ানক এ দুর্ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এই বার্তা দেন প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি এ দুর্ঘটনায় দুঃখপ্রকাশও করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় অর্ধশত যাত্রী নিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস নদীতে নিমজ্জিত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুততম সময়ে শুরু করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং অভিজ্ঞ ডুবুরি দল নিরলসভাবে কাজ করছে।’

তিনি বলেন, এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, নৌপুলিশ এবং স্থানীয় জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার তৎপরতায় অংশগ্রহণ করছে। এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক সমবেদনা ও সহমর্মিতা।  পাশাপাশি আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সুস্থতা ও পুনর্বাসনের জন্য সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান হাবিবুর রশিদ হাবিব।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ