খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১১ চৈত্র ১৪৩২

এবার জ্বালানি সংকটে ‘করোনার পরিস্থিতি’ হতে পারে এশিয়া জুড়ে

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৭ এ.এম | ২৬ মার্চ ২০২৬


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এশিয়া জুড়ে এক ধরনের ‘করোনা-সদৃশ’ সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান বিরোধী সামরিক অভিযান এবং এর জেরে তেল সরবরাহে বিঘœ ঘটায় এশিয়ার বহু দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে।
এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়। ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘœ ঘটেছে। ফলে বিভিন্ন দেশে পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক দেশ কোভিড-১৯ মহামারির সময়কার মতো বিধিনিষেধ আরোপ করছে। বাড়ি থেকে কাজ, অফিস সময় কমানো, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের আহবান জানানো হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই পরিস্থিতিকে করোনাভাইরাস মহামারির সঙ্গে তুলনা করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন।
ভারতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। সরকার শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থালির চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছে। রাজধানী দিল্লিতে জরুরি ব্যবস্থা নিয়ে এলপিজি সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে চীন। তবে তাদের মজুত তিন মাসের আমদানির সমান বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাপান সরকার জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রায় ৮০০ বিলিয়ন ইয়েন বরাদ্দ দিয়ে ভর্তুকি প্রদান করছে। একই সঙ্গে তারা কৌশলগত তেলের মজুত থেকে সরবরাহ শুরু করেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ-কে অতিরিক্ত তেল ছাড়ের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন।
আইইএ ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল তেল মজুত থেকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বাড়ি থেকে কাজ এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া জনগণকে কম সময় গোসল করা এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহবান জানিয়েছে। ফিলিপাইনে জরুরি জ্বালানি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র সতর্ক করে বলেছেন, চলমান পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি।
পাকিস্তানে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং শ্রীলঙ্কায় সপ্তাহে একদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডেও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইতিমধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শিপিং, বিমান পরিবহন ও জ্বালানি খাতে। 
সূত্র : আজকের পত্রিকা অনলাইন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ