খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মার্চ ২০২৬ | ১১ চৈত্র ১৪৩২

বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বের কাছে আহবান

এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহারে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সম্ভব : ডাঃ জুবাইদা রহমান

খবর ডেস্ক |
০১:৫৪ এ.এম | ২৬ মার্চ ২০২৬


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের প্রাপ্যতা এখনো সমান নয়। এজন্য বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বের কাছে আহŸান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডাঃ জুবাইদা রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ও হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ যোগ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প।
এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চল্লিশের বেশি ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেছেন। যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের কল্যাণ ও সম্ভাবনা উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আয়োজিত শীর্ষ এই সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
ডাঃ জুবাইদা রহমান বলেন, ঐতিহাসিক ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এ আপনাদের সবার সঙ্গে যোগ দিতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আমাদের শিশুদের সম্ভাবনা এবং প্রতিটি জাতির আগামীর অঙ্গীকারের মতো মহৎ উদ্দেশ্যে আমাদের একত্রিত করার জন্য আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ লেখা হয় সেই দেশের শিশুদের জীবনের পাতায়। আজ আমরা তাদের যে শিক্ষা দিই এবং যে মূল্যবোধে তাদের বড় করি, তার মাধ্যমেই তারা আগামীদিনের জাতি গঠন করে।’
তিনি আরও বলেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গভীরভাবে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। আমি কেবল চিকিৎসার ওপর নয়, বরং জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকে রোগ প্রতিরোধের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছি। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডে আর্থিক সুবিধার মাধ্যমে পরিবারকে শক্তিশালী এবং শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করছে।
ডাঃ জুবাইদা বলেন, শহর ও গ্রামের বৈষম্য দূর করতে প্রযুক্তি, বিশেষ করে ‘এড-টেক’ (ঊফ-ঃবপয) কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। একই সঙ্গে, আমরা এই প্রযুক্তিগুলোর নিরাপদ এবং নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, যাতে শিশুরা একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
জুবাইদা রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। আমাদের সরকার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল যুগে এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করছে। শিক্ষকদের ট্যাব ও কম্পিউটার দেওয়া হচ্ছে, পাঠ্যসামগ্রী হালনাগাদ করা হচ্ছে, ডিজিটাল কারিকুলাম চালু করা হচ্ছে এবং নতুন উদ্ভাবনী পদ্ধতি প্রবর্তন করা হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট যুক্ত করা হচ্ছে, যা দলগত কাজ, সৃজনশীলতা এবং নৈতিক বিকাশকে উৎসাহিত করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষাগত প্রযুক্তি শহর ও গ্রামের মধ্যে  বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে আমরা নিশ্চিত করছি, এসব প্রযুক্তির ব্যবহার যেন নিরাপদ ও নৈতিক হয়, যাতে শিশুরা একটি সুরক্ষিত ও সহায়ক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেন জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেন, শুধু চিকিৎসা নয়, জীবনের শুরু থেকেই শিশুর মৌলিক চাহিদার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আমার কাজ আমাকে শিক্ষা, চিকিৎসা যুব উন্নয়নের সার্বিক কল্যাণে আরও নিবেদিত করেছে।
বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করে জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন, আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো উদ্যোগ চালু করেছে, যা আর্থিক সহায়তা দিয়ে পরিবারকে শক্তিশালী করছে এবং বিশেষ করে নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবেশে শিশুদের বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করছে।
তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী উত্তরাধিকার রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মানবাধিকার সমুন্নত করেছেন এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমাদের সরকার নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গার্মেন্টস শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা লাখ লাখ নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। এটি প্রমাণ করে, যখন নারীরা ক্ষমতায়িত হন, তখন পরিবার শক্তিশালী হয় এবং শিশুরা সমৃদ্ধ হয়।
ডাঃ জুবাইদা রহমান বলেন, বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি, প্রশিক্ষিত শিক্ষক গড়ে তোলা এবং সবার জন্য শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি অঞ্চলকে সংযুক্ত করা, প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত রাখা এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে সহনশীল, মানবিক ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
সবশেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জ্ঞান বিনিময় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এবং বিশ্বকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ