খুলনা | শুক্রবার | ২৭ মার্চ ২০২৬ | ১২ চৈত্র ১৪৩২

নাটোরে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুট

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৫৫ পি.এম | ২৬ মার্চ ২০২৬

 

নাটোরের বড়াইগ্রামে নির্মাণাধীন পাওয়ার গ্রিড থেকে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার মালামাল লুট করেছে ডাকাত দল।

বুধবার (২৪ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলা বনপাড়ায় নির্মাণাধীন গ্রিড থেকে ওই মালামাল লুট করে ডাকাত দল।

খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সুমন কুমার, (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড়, বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস সালাম, বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন কুমার প্রমুখ।

পাহারাদার আবুল কাশেম জানান, আমরা চারজন পাওয়ার গ্রিডে পাহারাদার হিসেবে কাজ করি। সবার বাড়ি আশপাশেই। বুধবার সন্ধ্যায় আমি ডিউটিতে আসি, পরে অন্য তিনজন আসেন। রাত সাড়ে ৭টার দিকে পাহারাদার শফিকুল খেতে যায়। ২০ মিনিট পরে গেট খোলার জন্য নক করলে খুলে দেই। এসময় হঠাৎ পেছন থেকে ৫/৬ জন শফিকুলের কলার ধরে ভেতরে নিয়ে এসে বলেন, ছাত্তার-কে এখানে কাজ করে। আমরা ছাত্তার নামে কেউ নেই জানালে তারা ঘরে চেক করার নামে চারজনকেই নিয়ে আসে। এসময় হঠাৎ অস্ত্র বের করে আমাদের জিম্মি করে হাত, মুখ, চোখ, পা বাঁধেন। এরপর কোনো শব্দ করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। আমাদেরকে একটা ঘরে আটকে বাইরে থেকে ছিটকিনি দিয়ে রাখা হয়েছিল। এরপর ভেতরে গাড়ি প্রবেশ করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তারপর আমরা কোনো শব্দ না পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে বেশ চেষ্টা করে পাহারাদার সোহাগ তার বাবা শফিকুলের পা ও হাতের বাঁধন খুলে দেয়। পরে শফিকুল সবার বাঁধন খুলে। অনেক চেষ্টার পর দরজার ছিটকিনি খুলে রাত সাড়ে ৪টার দিকে ঘর থেকে বের হই। এরপর ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে একইসঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার স্যারদের বিষয়টি জানাই।

গ্রিডের উপসহকারী প্রকৌশলী আনাস আলী জানান, গ্রিডে বর্তমানে সিভিল কনস্ট্রাকশন ও ইলেকট্রিক ফিটিংসের কাজ চলছে। তাদের পক্ষ থেকে চারজন পাহারাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ইলেকট্রিক অংশের কাজ করছেন চায়না ন্যাশনাল ওয়ার অ্যান্ড ক্যাবল ইমপোর্ট এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিসি কম্পানি)।

সিসির স্থানীয় প্রতিনিধি প্রকৌশলী সোলায়মান আলী জানান, আমরা চায়না কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। আমাদের লুট হওয়া মালামাল তালিকা যাচাই করে দেখা গেছে ৩৬৮ পিস ব্যাটারি নিয়ে গেছে যার প্রায় মূল্য এক কোটি ১৩ লাখ, ২ হাজার মিটার তামার তার যার মূল প্রায় ৫৩ লাখ টাকাসহ অন্যান্য মালামাল মিলে ১ কোটি ৯২ লাখ ষাট হাজার ২৮৯ টাকা। এখানে দুটি ডিভিয়ার দ্বারা সিসি ক্যামেরা পরিচালিত হতো। তারা দুটি ডিভিয়ারই নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে পাহারাদারদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনও নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনা উদঘাটনে ডিবি টিম কাজ শুরু করেছে। পিজিসিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িতদের আটক এবং মালামাল উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ