খুলনা | শনিবার | ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৩ চৈত্র ১৪৩২

শত্রু দেশে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত ইরানের

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৫:০৬ পি.এম | ২৭ মার্চ ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলা এখনো চলছে। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এই যুদ্ধের পর কঠিন সিদ্ধান্ত নিল। যাদের সঙ্গে শত্রুভাবাপন্ন সম্পর্ক, সেসব দেশে ইরান তাদের অ্যাথলেটদের পাঠাবে না।

নির্দিষ্ট কোনো খেলার নয়। ইরান সব ধরনের ক্রীড়াবিদদের শত্রু দেশে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত রাতে ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা শত্রু এবং ইরানের ক্রীড়াবিদ ও সদস্যদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, সেসব দেশে জাতীয় ও ক্লাব দল পাঠানো হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বলবৎ থাকবে।’

সৌদি আরবে আগামী মাসে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি ক্লাব মুখোমুখি হবে। এমন সময়ে তারা শত্রু দেশে খেলোয়াড় না পাঠানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইরানের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ম্যাচগুলো যেন অন্যত্র স্থানান্তর করা যায়, সে ব্যাপারে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনকে জানানোর দায়িত্ব নিতে হবে।’ তবে শত্রু দেশ বলতে ইরান কাকে বুঝিয়েছে, তা অবশ্য উল্লেখ করা হয়নি।

ইরান কি ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না—সময় যত এগোচ্ছে, ততই এই প্রশ্ন উঠছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পাল্টাপাল্টি হামলা করছে ইরান। তাতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্পর্ক ক্রমশ অবনতি হচ্ছে। এমনকি ইরানের বিশ্বকাপের ম্যাচের ভেন্যু সরে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এবারের বিশ্বকাপ ফুটবলে ইরানের তিন ম্যাচের দুটি লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটলে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী ইরানি বেশি থাকায় মাঠের ভেতরে ও বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেকারণেই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে কথাবার্তা বেশি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের আরেক আয়োজক মেক্সিকোতে খেলতে চাচ্ছে ইরান।

বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একেক সময় একেক কথা বলছেন। কখনো ইরানকে স্বাগত জানাচ্ছেন, কখনোবা তাদের বিশ্বকাপ থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি। ইরানও ছেড়ে কথা বলছে না।

কদিন আগে শোনা গিয়েছিল, ফিফার সঙ্গে আলোচনা করে ইরান বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলাচ্ছে। পরবর্তীতে ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপ হবে। এখন বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেয় কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। এবারের বিশ্বকাপেই প্রথমবারের মতো ৪৮ দল অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গেও সম্পর্ক খারাপ হয়েছে ইরানের।

৮ মার্চ ফিলিপাইনের কাছে হেরে ইরানের এবারের নারী এশিয়ান কাপে পথচলা থেমে যায়। কিন্তু যুদ্ধাবস্থার মধ্যে দেশে ফিরবেন কী করে? তখন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসী ইরানিরা ফুটবলারদের সেখানেই (অস্ট্রেলিয়া) আশ্রয় দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ইরান সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ইরানের ফুটবলারদের আশ্রয়ের অনুরোধ করেছিলেন। পরে সাত নারী ফুটবলার আশ্রয় নিলেও পাঁচজনই দেশে ফিরেছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ