খুলনা | শনিবার | ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৩ চৈত্র ১৪৩২

স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে শেষঘুমে মুফতি মমিন

খবর প্রতিবেদন |
০৬:০৩ পি.এম | ২৭ মার্চ ২০২৬


‎‎ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরা হলো না মুফতি আব্দুল মমিন ও তার পরিবারের চার সদস্যের। কুমিল্লার মিয়ামি হোটেলের সামনে ঘাতক বাসের ধাক্কায় মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে পরিবারের স্বপ্ন। জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে লক্ষ্মীপুরে মুফতি আব্দুল মমিনের শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে শায়িত করা হয় তাদের।

এর আগে শুক্রবার ভোরে চারজনের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এসময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। এমন অকাল মৃত্যু মেনে নিয়ে পারছেন না নিহতদের স্বজনরা। মেয়ে-জামাই ও নাতি-নাতনিকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন প্রায় ৯০ বছরের বয়োবৃদ্ধ আলেম মো. আবুল কালাম। ঘটনাটি তদন্ত করে স্টার লাইন পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থেকে পরিবারসহ ঢাকায় ফিরছিলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আব্দুল মমিন। কুমিল্লার বুড়িচং-এ একটি হোটেলে খাবার খেয়ে বের হওয়ার পর মহাসড়কে উঠতে যাচ্ছিলো তাদের প্রাইভেটকারটি। এ সময় চট্টগ্রামগামী স্টার লাইন পরিবহনের বাস প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দিলে মুহূর্তেই নিভে যায় পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের প্রাণ। অথচ ঘড়ির কাঁটায় তখন ওই পরিবারের ছিল ঢাকায় ফেরার তাড়া, কিন্তু নিয়তি যেন ওত পেতে ছিল কুমিল্লার হাইওয়েতে।‎ এতে নিমিষেই শেষ হয়ে যায় মুফতি মমিনের পরিবারের স্বপ্ন। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার ভোররাতেই চারজনের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তিতারকান্দি এলাকায় আব্দুল মমিনের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

স্বজনরা জানান, সংঘর্ষের পর বাসটি প্রাইভেট কারটিকে প্রায় আধা কিলোমিটার টেনে নিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালকসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হন। দুর্ঘটনা থেকে আহত অবস্থায় বেঁচে যায় ১২ বছর বয়সী ছেলে আবরার। তাকে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালেচিকিৎসা শেষে নানার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরিবারের সবাইকে হারিয়ে দিশেহারা আবরার।

আবরার জানায়, সে গাড়ির বাম পাশে বসা ছিলো। মুহূর্তে একটি ধাক্কায় জ্ঞান হারিয়ে পেলে সে। জ্ঞান ফিরলে দেখতে পায় একটি সিএনজিতে পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত মরদেহ।

নিহতরা হলেন, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ঝর্না বেগম, ছেলে সাইদ আশরাদ ও মেয়ে লাবিবা। মুফতি আব্দুল মমিন ঢাকার জামেয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন।

এদিকে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা সকালে তিতারকান্দি এলাকায় গিয়ে নিহতদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন। এদের সান্তনা দেন। এসময় গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, তাৎক্ষণিক মরদেহ দাফন সম্পন্নের জন্য ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

এছাড়াও ৫ লাখ টাকা সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। শোকাহত পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ