খুলনা | শনিবার | ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৩ চৈত্র ১৪৩২

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ভোগান্তি পাওনা পরিশোধে ব্যবস্থা নিন

|
১২:১৫ এ.এম | ২৮ মার্চ ২০২৬


মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ৯৭ শতাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই বেসরকারি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাঁদের পেনশন সুবিধাও নেই। দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরের সময় যে সামান্য পরিমাণ অর্থ পান, তা পেতেও পোহাতে হয় ভোগান্তি।
পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অবসরের পর সেই অর্থ পেতে আবেদন করার পর চার বছর পেরিয়ে গেলেও শিক্ষকরা সেই অর্থ পাচ্ছেন না। অনেক ধারণা দেওয়ার পরও অন্তর্বর্তী সরকার এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপই নেয়নি। দেশের ক্ষমতায় আসা রাজনৈতিক সরকারের কাছে তাঁদের প্রত্যাশা, এ ব্যাপারে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা যায়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরকালীন অর্থ প্রদানের জন্য রয়েছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট।
শিক্ষকদের প্রতি মাসের মূল বেতন থেকে অবসর বোর্ডে কেটে নেওয়া হয় ৬ শতাংশ টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে কেটে নেওয়া হয় ৪ শতাংশ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সরকার প্রদত্ত একটি অংশ। অবসরের সময় এই অর্থই পরিশোধ করা হয়। প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বর্তমানে এক লাখ ১০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীর আবেদন জমা হয়ে আছে।
এর মধ্যে অবসর বোর্ডে আবেদন জমা আছে প্রায় ৬৫ হাজার এবং কল্যাণ ট্রাস্টে আবেদন জমা আছে প্রায় ৪৫ হাজার। অবসর বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে যে পরিমাণ অর্থ জমা হয় এবং প্রতি মাসে যে পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয় দু’টির মধ্যে বড় পার্থক্য থাকে। প্রতিবছর বাজেটে কিংবা থোক বরাদ্দ হিসেবে যথেষ্ট অর্থ না পাওয়ায় পুরো দাবি পরিশোধ করা যায় না। এ কারণে বকেয়া দাবির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।
অবসর সুবিধা বোর্ড সূত্র জানায়, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া ৬ শতাংশ অর্থে প্রতি মাসে জমা হয় ৭০ কোটি টাকা।
আর বোর্ডের এফডিআর থেকে আসে তিন কোটি টাকা। প্রতি মাসে মোট আয় হয় ৭৩ কোটি টাকা। কিন্তু প্রতি মাসে যতসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে যান, তাঁদের পেনশনের টাকা পরিশোধ করতে প্রয়োজন হয় ১১৫ কোটি টাকা। ফলে প্রতি মাসে ঘাটতি থাকে ৪২ কোটি টাকা। এভাবে আবেদন জমতে জমতে চার বছরেরও বেশি গ্যাপ তৈরি হয়েছে। প্রায় একই অবস্থা কল্যাণ ট্রাস্টের ক্ষেত্রেও। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সব শিক্ষকের পাওনা একবারে পরিশোধ করতে সরকারের কাছ থেকে এককালীন সাত হাজার ২০০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রতিবছর বাজেটে এ জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন।
আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে বাস্তবসম্মত কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ