খুলনা | রবিবার | ২৪ অক্টোবর ২০২১ | ৮ কার্তিক ১৪২৮

সরকারের সম্মতি পেলে বেসরকারি হুইসেল বাজবে ক্রিসেন্টসহ পাঁচ জুট মিলে

আশরাফুল ইসলাম নূর |
১২:৫২ এ.এম | ১০ অক্টোবর ২০২১


পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যক্তি ও বেসরকারি খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত এখন মন্ত্রণালয়ে ঝুলে আছে। সরকারের সম্মতি পেলেই বেসরকারি উদ্যোগে হুইসেল বাজবে খুলনার শ্রমিক অঞ্চল খ্যাত খালিশপুরের ক্রিসেন্টসহ পাঁচটি জুট মিলে। এতে কর্মসংস্থান হবে প্রায় চার হাজার শ্রমিকের। গত বছরের ১ জুলাই থেকে এসব রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করা হয়।
বাংলাদেশ জুটমিল করপোরেশন (বিজেএমসি) সূত্র জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের বন্ধ পাটকল পুনরুজ্জীবিত করতে ব্যক্তি ও বেসরকারি খাতে লিজ দিতে দরপত্র আহŸান করা হয়। খুলনার মিলগুলোর মধ্যে প্লাটিনাম, খালিশপুর ও স্টার জুট মিলের ক্ষেত্রে কারো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে ক্রিসেন্ট, দৌলতপুর, ইস্টার্ণ, জেজেআই ও কার্পেটিং মিলের জন্য ভারতীয় দুই প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। তাদের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। ৯৯ বছর মেয়াদে এসব মিল লিজ দেবে সরকার।
বিজেএমসি চেয়রাম্যান মোঃ আব্দুর রউফ মুঠোফোনে বলেন, “মিলগুলোর লিজের ব্যাপারে ইভ্যালুশন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয়ে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্তধীন রয়েছে। এর মধ্যে ক্রিসেন্ট জুট মিলটার লিজ মূল্য বেশ উৎসাহব্যঞ্জক। দেশী কোম্পানি ‘মিমো জুট’ প্রতি মাসে ৮৮ লাখ টাকা ভাড়া দিতে চায়। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। যদি ক্রিসেন্ট জুট মিলটা আরও আগে দিতে পারতাম, তাহলে চার সহস্রাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান হতো।”
তিনি আরও জানান, ক্রিসেন্ট জুট মিলটি মিমো জুট মিল কোম্পানি এবং দৌলতপুর, ইস্টার্ণ, জেজেআই ও কার্পেটিং জুট মিলস্ লিঃ-লিজ নিতে দরপত্র জমা দিয়েছিল ভারতের মোহন জুট ও প্যাসিফিক ইন্টারন্যাশনাল। যাচাই-বাছাই শেষে যাবতীয় কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পেলে ডিসেম্বরেই মিল চালু করা সম্ভব। তবে প্লাটিনামসহ তিনটি পাটকলের জন্য দেশী-বিদেশী কারও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
১৯৫৪ সালে পাকিস্তান আমলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে ভৈরব নদের তীরে আগাখান শিল্প গ্র“পের উদ্যোগে ক্রিসেন্ট জুট মিলটি গড়ে উঠে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার মিলটি জাতীয়করণ করে। লোকসানের কারনে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় গত বছরের ১ জুলাই খুলনা অঞ্চলের সাতটি পাটকল বন্ধ ঘোষণা করে। মিল বন্ধ ঘোষণা করার পর গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের আওতায় ৭ মিলের ৩৬ হাজার ৩৯৫ জন শ্রমিকের পাওনা বাবদ নগদ ৭২৯ কোটি টাকা এবং ২৭৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র দিয়ে পাওনা পরিশোধ করা হয়।
ক্রিসেন্ট জুট মিলের প্রকল্প প্রধান খান কামরুল ইসলাম জানান, ক্রিসেন্ট জুট মিলে বিদ্যুৎ, টেলিফোন, পানি ও কর্মচারীর বেতন দিয়ে প্রতিমাসে প্রচুর খরচ হচ্ছে। রূপালী ব্যাংকে এ মিলের ধার-দেনা অন্তত চারশ’ কোটি টাকা। মিলটি চালু করলে প্রায় চার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। শিল্পনগরীর খুলনার চিত্র পাল্টে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ