খুলনা | শনিবার | ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৩ চৈত্র ১৪৩২

চিংড়ি ঘের দখল নিয়ে বিরোধ : এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

মোংলায় বিএনপি’র দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ৯, এলাকায় চরম উত্তেজনা

মোংলা প্রতিনিধি |
০১:৩৯ এ.এম | ২৮ মার্চ ২০২৬


মোংলায় ৩২ বিঘার একটি বিশাল চিংড়ি ঘেরের দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপি’র দুইপক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে চিলার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরতলা এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরস্পর বিরোধী অভিযোগও হয়েছে মোংলা থানায়। এ নিয়ে এলাকায় দুই গ্র“পের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের সুন্দরতলা এলাকার ওই ৩২ বিঘার চিংড়ি ঘেরটির মালিকানা ও দখল নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিএনপি নেতা পলাশ শেখ এবং মিরাজুল শেখের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান বৃহস্পতিবার রাতে ওই ঘেরটি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষে পলাশ গ্র“পের ৩ জন এবং মিরাজুল গ্র“পের ৬ জন গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করে। আহতরা হচ্ছে মিরাজুল শেখ, হাতেম ফকির, তারিকুল শেখ, রফিকুল শেখ, আলামিন ফকির ও হাসান ফকির। আর পলাশ গ্র“পের উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক পলাশ শেখ, রামেলসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়। উভয় পক্ষের আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় মোংলা থানায় উভয়পক্ষই শুক্রবার পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছে। 
হাতেম আলী ফকির বলেন, ৩২ বিঘার এই ঘেরটি নগদ হারি দিয়ে জমির মালিকের কাছ থেকে চিংড়ি চাষ করার জন্য রাখি। কিন্তু গত বছর থেকে পলাশ শেখ এই ঘেরটি দখলে নেয়ার জন্য পাঁয়তারা করে আসছিল। পরে এটি নিয়ে শালিস বৈঠক হলেও তার লোকজনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায় ৮-১০ লক্ষ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। আমরা ঘেরে গেলে আমার উপর হামলা ও মারধর করে ৬ জনকে রক্তাক্ত জখম করেছে। 
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ পলাশ শেখ জানায়, চিংড়ি ঘেরটি গত ২০২৫ সালে জমির মালিকদের টাকা না দিয়ে জোরপূবর্ক দখল করে মাছ চাষ করে আসছিল মিরাজুল ও হাতেম ফকিরের লোকজন। ২০২৬ সালে জমির মালিক সেই ঘেরের হারির সম্পূর্ণ টাকা পেয়ে আমাদেরকে লিখে দেয়। কিন্তু মিরাজুল ও হাতেম ফকিরসহ তাদের লোকজন জোরপূর্বক আমাদের সেই ঘের দখল করার জন্য আসে এবং আমাদের ঘেরের ঘরে থাকা লোকজনের উপর হামলা করে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমরা শুক্রবার থানায় অভিযোগ দিয়েছি, এর সুষ্ঠ বিচার চাই। 
পুলিশ জানায় দুই গ্র“পের মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি এজাহার দাখিল করা হয়েছে। এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনাস্থল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
মোংলা থানার ওসি তদন্ত জানান, ঘটনা শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ হয়েছে, তদন্তও চলছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযানও চালানো হচ্ছে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে মোংলা এলাকার ৬টি ইউনিয়ন জুড়ে ঘের দখল, মাছ লুট, বাড়ি ঘরে হামলা, দখল-লুটপাট আর মারামারী ও সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তারা দ্রুত এই সকল ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি দাবি করেছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ