খুলনা | শনিবার | ২৮ মার্চ ২০২৬ | ১৩ চৈত্র ১৪৩২

গভীর শ্রদ্ধায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫৩ এ.এম | ২৮ মার্চ ২০২৬


মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার খুলনাসহ সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়। 
দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রত্যুষে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইনে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিবসের শুভ সূচনা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা দ্বারা সজ্জিত করা হয়।
গল্ল¬ামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ও জেলা ইউনিট, বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, কেডিএ চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসন, খুলনা প্রেসক্লাব, নৌপুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, শ্রম দপ্তর, মৎস্য দপ্তর, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিএনপি জেলা ও মহানগর অঙ্গসংগঠনসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 
সকাল সাড়ে আটটায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। পরে একই স্থানে পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কারারক্ষী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। 
বিভাগীয় কমিশনার প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন। পুলিশের রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ রেজাউল হক, কেএমপি অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন। 
খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস, পিআইডির আয়োজনে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বিভাগীয় কমিশনার মোঃ মোখতার আহমেদ। জেলা প্রশাসক আঃ স ম জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কেএমপি অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান, পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি তোফায়েল আহাম্মেদ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ মহানগর ইউনিটের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, জেলা ইউনিটের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু জাফর ও জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাকিব রায়হানের গর্বিত মাতা বেগম নুর নাহার।
দিবসটি উপলক্ষে সিনেমা হলসমূহে ও উন্মুক্তস্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন/প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র, শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জাতির শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বাদযোহর বা সুবিধাজনক সময়ে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। সকাল নয়টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ রকেট ঘাটে নৌ-বাহিনীর জাহাজ জনসাধারণের দর্শনের জন্য উম্মুক্ত রাখা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে আলোজসজ্জা করা হয়। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া (টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, ফুটবল ম্যাচ ও কাবাডি) প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। খুলনার সকল পার্ক ও বিভাগীয় জাদুঘর শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হয়। দিবসটি উপলক্ষে খুলনা বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। এছাড়াও দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন : দিবসের প্রত্যুষে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ নগরীর গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তাবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।  
এছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষে সূর্য্যদেয়ের সাথে সাথে নগর ভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কেসিসি পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন; নগর ভবন, নগরীর সড়ক দ্বীপ ও তিনটি প্রবেশ দ্বার কাগজের পতাকা দ্বারা সজ্জিত করাসহ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীর ওয়ান্ডারল্যান্ড শিশু পার্ক ও লিনিয়ার পার্কে শিশুদের বিনামূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়। 
সকাল ৯টায় নগর ভবনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। কেসিসি প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। 
কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোল্লা মারুফ রশীদ, বাজার সুপার শেখ শফিকুল হাসান দিদার, লাইসেন্স অফিসার (বাণিজ্য) খান হাবিবুর রহমান সহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিনিয়র লাইসেন্স অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম।
বিকেল ৪টায় খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে কেসিসি একাদশ ও জেলা প্রশাসন একাদশের মধ্যে প্রীতি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন। 
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় : দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হারুনর রশীদ খান কর্তৃক জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এ সময় ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী ও বিভিন্ন স্কুলের ডিনবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে গল্লামারী বধ্যভ‚মিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্র বিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট, পরিচালকসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রভোস্ট কাউন্সিল ও বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। 
দিবসের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও সকাল ৯টায় মন্দিরে প্রার্থনা।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) : দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হয়েছে। বেলা ১১টায় ক্যাম্পাস¯ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য “দুর্বার বাংলা” এর পাদদেশে জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বীর শহীদদের প্রতি কুয়েটের অনুষদের ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) ও সিনিয়র শিক্ষকগণকে সাথে নিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন কুয়েটের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। অতঃপর, শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স এসোসিয়েশন, ফজলুল হক হল, খানজাহান আলী হল, ড. এম এ রশীদ হল, রোকেয়া হল, অমর একুশে হল, শহীদ স্মৃতি হল, কর্মচারী সমিতি ও মাস্টাররোল কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ, প্রফেসর ড. এম এম তওহিদ হোসেন, প্রফেসর ড. এম এম এ হাসেম, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ আনিছুর রহমান ভ‚ঞা, অফিসার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ গোলাম কিবরিয়া, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ রবিউল ইসলাম, কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজুর রহমান। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. বি এম ইকরামুল হক।
এছাড়া বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে প্রশাসনিক ভবন, ভাইস-চ্যান্সেলরের বাসভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হলসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের অংশগ্রহণে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও  পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি খুলনা : দিবসে সকাল ৯ টায় গল্লামারি স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। গল্লামারি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন ও মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির  আহবায়ক ড. মোঃ ইমজামাম-উল- হোসেন, প্রক্টর শাকীল আহমদ, আইকিউএসি’র পরিচালক মোঃ আনিসুর রহমান, বিভাগীয় প্রধানগণ, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, দপ্তর প্রধানগণ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। 
এর আগে নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সোনাডাঙ্গা মোড়স্থ প্রশাসনিক ভবনে সূর্য উদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এর মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবসকে যথাযথ সম্মান জানানো হয় ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে।
আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ : দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, আলোচনা অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণী সভা ও দোয়া। এতে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষক পরিষদ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের আহবায়ক প্রফেসর তারক চাঁদ ঢালী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরোও বক্তৃতা করেন প্রফেসর কল্লোল কুমার রক্ষিত, সহকারী  অধ্যাপক নাজমুন নাহার, শেখ জাকির হোসেন ও শিক্ষার্থী ইসমাইল চৌধুরী টুটুল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক শামীমুজ্জামান সবুজ ও সুব্রত বিশ্বাস। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের জন্য টি-২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হবে।
খুলনা কলেজ : দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানের আহবায়ক, শিক্ষক প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারি অধ্যাপক মোঃ আবুল বাসার। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করেন সহকারী অধ্যাপক মোঃ মিজানুর রহমান, সহকারী অধ্যাপক মোস্তফা আবু রায়হান, সহকারী অধ্যাপক আবুল বরকত মোঃ আদেল, সহকারী অধ্যাপক মোঃ ওয়ালিউল্লাহ এবং প্রভাষক মোঃ মাহাবুবুর রহমান। আলোচনা শেষে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা অর্জনে যাদের অবদান রয়েছে তাদের জন্য বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন সহকারী অধ্যাপক জি এম আবুল কাসেম আল মাহদী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ জাবের হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের শিক্ষক প্রতিনিধি শামীমা সিদ্দিকী ও বিভিন্ন বিভাগের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক শেখ হামিদুজ্জামান হামিদ। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক মোঃ আব্দুছ ছালাম বিশ্বাস এবং গীতা থেকে পাঠ করেন মনোবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক প্রনব রায়। 
ওয়ার্কার্স পার্টি খুলনা : দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পার্টির  উদ্যোগে আলোচনা সভা পার্টির মহানগর সভাপতি শেখ মফিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত থাকেন পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার উদ্দিন দিলু, মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ফারুখ-উল ইসলাম, সম্পাদকমন্ডলী সদস্য নারায়ণ সাহা, আঃ সাত্তার মোল্লা, সদস্য মনির হোসেন, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাবেক নেতা অশোক সেন, বিশিষ্ট নাগরিক অরূপ দেবনাথ ও তাপস দে প্রমুখ।
খুলনা প্রেসক্লাব : দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকালে ক্লাবের হুমায়ূন কবীর বালু মিলনায়তনে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক। সভা পরিচালনা করেন ক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম, মিজানুর রহমান মিলটন, কৌশিক দে ও আশরাফুল ইসলাম নূর, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম, আবুল হাসান হিমালয়, গাজী মনিরুজ্জামান ও মুহাম্মদ নূরুজ্জামান এবং দৈনিক খুলনা প্রতিদিনের  সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ সোহাগ দেওয়ান।  
আলোচনা শেষে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ক্লাবের ইমাম মাওলানা মোঃ ইউসুফ হাবিব। এরআগে স্বাধীনতা দিবসের শুরুতে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে খুলনা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের কার্যনর্বাহী সদস্য মোঃ মিজানুর রহমান মিলটন,  ক্লাব সদস্য মোঃ তরিকুল ইসলাম, আতিয়ার পারভেজ, আব্দুর রাজ্জাক রানা, শেখ আল এহসান, মোঃ রকিবুল ইসলাম মতি ও অভিজিৎ পাল, ক্লাবের অস্থায়ী সদস্য মহেন্দ্রনাথ সেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন রুবেল মোঃ রাজু হাওলাদারসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ। 
বিএমএ, খুলনা : দিবস  উপলক্ষে গল্লামারী শহীদ স্মৃতি সৌধে সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধানিবেদন করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম, সহ-সভাপতি ডাঃ মোল্লা হারুন অর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডাঃ আশিষ কুমার সাহা, ডাঃ গাজী মিজানুর রহমান, ডাঃ আর  কে নাথ, ডাঃ শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ডাঃ বোরহান উদ্দীন আহমেদ, ডাঃ গৌতম রায়, ডাঃ বিশ্বজিৎ সরকার, ডাঃ শৈলেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, ডাঃ প্রকাশ চন্দ্র দেবনাথ ও ডাঃ শেখ রাহি আহমেদ প্রমুখ।
এমইউজে খুলনা : দিবস উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। বেলা ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবস্থ ইউনিয়ন কার্যালয়ে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানার পরিচালনায় বক্তৃতা করেন বিএফইউজে’র সাবেক নির্বাহী সদস্য শেখ দিদারুল আলম ও এইচ এম আলাউদ্দিন, ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মোঃ নূরুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূর, নির্বাহী সদস্য মোঃ এরশাদ আলী, সিনিয়র সদস্য আহমদ মুসা রঞ্জু, নাজমুল হক পাপ্পু, মোঃ আমিরুল ইসলাম, সেলিম গাজী, নূরুল আমীন, শেখ ফেরদৌস রহমান, মোঃ শাহ আলম, মাসুম বিল্লাহ ইমরান, রমজান হোসেন জুয়েল, এমএ আজিম ও ওবায়দুর রহমান পলাশ প্রমুখ। পরে সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরআগে ২৬ মার্চ সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গল্লামারী স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এ সময় ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানা, কোষাধ্যক্ষ মোঃ রকিবুল ইসলাম মতি, সিনিয়র সদস্য আতিয়ার পারভেজ, মিজানুর রহমান মিলটন, নাজমুল হক পাপ্পু, আব্দুল্লাহ আল মামুন রুবেল, আরাফাত হোসেন অনিক ও ওবায়দুর রহমান পলাশ।
কেইউজে : দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় আলোচন সভা ও বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কেইউজের সদস্য দেবব্রত রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্র নাথের সেন। সংবর্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমান বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী ইমদাদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আলমগীর হোসেন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাসমত প্রমুখ। আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহŸায়ক এনামুল হক, বিএফইউজে সদস্য কৌশিক দে বাপী, টিভি রিপোর্টার্স ইউনিটের সাবেক সভাপতি সুনীল দাস, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাহী সদস্য এম এম লিয়াকাত হোসেন প্রমুখ। এর আগে প্রত্যুষে সংগঠনের উদ্যোগে গল্লামারী স্বাধীনতা সৌধে বীরশহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। 
রাইজিং সান হেল্থ ক্লাব : দিবস উপলক্ষে সকালে শহীদ হাদিস পার্ক থেকে র‌্যালি শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ শেষে হাদিস পার্কে এসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের সভাপতি কবির হোসেন মৃধার সভপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার সাহার পরিচালনায় আলোচনা করেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যক্ষ খালিদ আহম্মেদ, সাবেক সভাপতি অসীম আনন্দ দাস, মিন্টু আঢ্য, কাজী হাবিবুর রহমান, জিয়াদুল কবীর, জাহিদুল ইসলাম, শংকর কুমার ঘোষ, এস এম হাফিজুর রহমান  প্রমুখ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ