খুলনা | রবিবার | ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৪ চৈত্র ১৪৩২

ইউরোপে যাওয়ার পথে

পানি-খাবার ছাড়া ৬ দিন সাগরে, ২২ জনের মৃত্যু, ২১ বাংলাদেশি উদ্ধার

খবর প্রতিবেদন |
১১:১৪ পি.এম | ২৮ মার্চ ২০২৬

 

ভূমধ্যসাগরের গ্রিসের উপকূলে একটি রাবার ডিঙি নৌকায় ছয় দিন সমুদ্রে থাকার পর অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সেই নৌকা থেকে এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে গ্রিক কোস্টগার্ড, যাদের মধ্যেই ২১ জনই বাংলাদেশি।

গ্রিক কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছেন, অভিবাসীবাহী নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল, যা ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থী বহু অভিবাসীর প্রবেশদ্বার।

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের বরাতে গ্রিক কোস্টগার্ড জানিয়েছে, ‘যাত্রাপথে ডিঙি নৌকার যাত্রীরা দিক হারিয়ে ফেলেন এবং পানি ও খাবার ছাড়া ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে ছিলেন। এতে ২২ জনের মৃত্যু হয় এবং তাদের মৃতদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। অবশেষে ক্রিটের দক্ষিণ উপকূলবর্তী শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটিকে থামানো হয়েছিল।’

পরে শুক্রবার ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ একজন নারী ও একটি শিশুসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে দুজনকে ক্রিট দ্বীপের হেরাকলিয়নের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গ্রিক কোস্টগার্ড আরও জানায়, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের এবং একজন চাদের নাগরিক। নিহতদের মধ্যেও অধিকাংশেই বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

বেঁচে যাওয়া একজন জানান, মরদেহগুলো পাচারকারীদের একজনের নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

এ ঘটনায় গ্রিক কর্তৃপক্ষ ১৯ ও ২২ বছর বয়সি দুই দক্ষিণ সুদানি নাগরিকে গ্রেফতার করেছে, যাদের পাচারকারী বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তদন্ত চলছে।

প্রসঙ্গত, সংঘাত এবং দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং এশিয়ার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশের একটি প্রধান দেশ হল গ্রিস। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকেই লিবিয়া উপকূল থেকে বিপজ্জনক পথে রাবারের ডিঙিতে চেপে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। মানবপাচারকারীরাও এই অসহায়তার সুযোগ নেয় অনেক ক্ষেত্রে। তারা পর্যাপ্ত রসদ বা লাইফজ্যাকেট ছাড়াই নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে যাত্রা করে। এতে প্রায়ই খারাপ আবহাওয়ার কবলে পরে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে, প্রাণ হারান অভিবাসীরা।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে সমুদ্রপথে অন্তত ৪১ হাজার ৬৯৬ জন এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৪০০০ জনেরও বেশি অভিবাসী গ্রিসে এসে পৌঁছেছেন।

ইউএনএইচসিআর আরও জানিয়েছে, গত ডিসেম্বরেও ক্রিটান উপকূলের কাছে আংশিকভাবে ডুবে যাওয়া একটি নৌকার ভেতর থেকে ১৭ জন অভিবাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

প্রিন্ট

আরও সংবাদ