খুলনা | সোমবার | ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২

নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রথমবার তারেক রহমান, নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস

বিশেষ প্রতিবেদক |
০১:১৪ এ.এম | ২৯ মার্চ ২০২৬


প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মত রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হলে স্লোগান দিয়ে নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান। এর আগে সন্ধ্যা ৭টা ২৩ মিনিটে তাঁর গাড়িবহর দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছায়। এ সময় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী স্লোগানে স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানান।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সাতটার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
তারেক রহমান দলীয় কার্যালয়ের সামনে পৌঁছানোর পর গাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান। এরপর তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এসে কার্যালয়ের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের দেশের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ধৈর্য ধরে আইনশৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কাজ করতে হবে এবং কোনো ভাবে যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা করতে হবে, সবকিছু যেন স্বাভাবিক থাকে। আমি অফিসে আরও আসব, তবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। মানুষের চলাফেরা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।’ তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে দ্রুত সড়ক ফাঁকা করে দেওয়ার আহŸান জানান।
তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয়ে এলে সাংগঠনিক কাজ করা যাবে এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হবে। ‘আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি অফিসে আসতে পারব, না থাকলে পারব না,’ বলেন তিনি।
নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, আইনশৃঙ্খলার ভেতরে থাকতে হবে এবং আমাদেরকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, দেশে নানা সমস্যা রয়েছে এসব বিষয়ে মানুষকে বোঝাতে হবে এবং তাদের ধৈর্য ধারণে সহযোগিতা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দলের দিকে তাকিয়ে আছে।’ তাই কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যেন মানুষের কষ্ট বা অসুবিধা না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহŸান জানান তিনি।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সড়ক স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের এখন প্রথম কাজ হচ্ছে রাস্তাটা ক্লিয়ার করা।’ একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, ভবিষ্যতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা না হলে তাঁর পক্ষে সেখানে আসা কঠিন হবে।
এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছালে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাঁকে স্বাগত জানান। 
প্রধানমন্ত্রীর আসার খবরে দুপুর আড়াইটা থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকরা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। বিকেল সাড়ে ৪টার থেকে নয়া পল্টনের সড়ক ভরে যায়। তারা ‘তারেক রহমানের আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগত’ শ্লোগানে মুখর করে রাখেন পুরো এলাকায়।
পরে সন্ধ্যা ৭টায় বিএনপি চেয়ারম্যানের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসার তথ্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢোকার পর সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি চেয়ারম্যানের কক্ষে বসেন। সেখানে বিভিন্ন সাংগঠন কর্মকাণ্ড নিয়ে দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মনিসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বিকেলে সরেজমিনে পুরানা পল্টনের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। তাঁদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড।
ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ প্রায় সবক’টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় তাঁরা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছাসহ তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
সড়কে নেতা-কর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কোনো রকমে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে পারছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নয়াপল্টন, ফকিরাপুল, ভিআইপি রোড ও কাকরাইল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
একজন নারী কর্মী বলেন, ‘দুই বছর আগেও আমরা এখানে আসতে পারতাম না। পুলিশে তাড়াত, গ্রেফতার করত। আর আজকে আল্লাহ চাইলে কী না পারে।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ