খুলনা | রবিবার | ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৪ চৈত্র ১৪৩২

‘তেল নেই’ লেখা পাম্পেই মিললো ২৮ হাজার লিটার!

ফরিদপুরে বন্ধ থাকা দু’টি তেলের পাম্পে প্রায় ৫৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল!

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৫ এ.এম | ২৯ মার্চ ২০২৬


ফরিদপুরে বন্ধ থাকা দু’টি তেলের পাম্পে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শহরতলীর কানাইপুরে হোসেন ফিলিং স্টেশন পাম্পে ‘পেট্রোল নেই’ লেখা থাকলেও পাম্পটিতে মিললো ৭ হাজার লিটার পেট্রোল। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও পাম্পটিতে ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন ও ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল মজুদ থাকা সত্তে¡ও ভোক্তাদের তেল সরবরাহ না করে ‘তেল নেই’ লিখে পাম্প বন্ধ করে রাখা হয়। এ সময় হোসেন ফিলিং স্টেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং রয়েল ফিলিং স্টেশনে নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে তেল বণ্টনের শর্তে জরিমানা মওকুফ করেন আদালত। 
অবৈধ মজুত ঠেকাতে শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা সদরের এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সদর উপজেলার ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের পাশে কানাইপুর বাজারে হোসেন ফিলিং স্টেশন নামক পেট্রোল পাম্পে ও রয়েল ফিলিং স্টেশন পেট্রোল পাম্পসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত ও ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রয়েছে এমন অভিযোগে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেসকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার দীপ্ত চক্রবর্তী ও সাকিব রহমান আকাশ।
সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন জেলা সদরের কানাইপুর এলাকায় অবস্থিত হোসেন ফিলিং স্টেশনে ভোক্তা পর্যায়ে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাম্পটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং সন্দেহ অনুযায়ী ট্যাংকে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার লিটার জ্বালানির অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, সাড়ে ৬ হাজার লিটার অকটেন এবং সাড়ে ১৪ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ আইনে ২০০৯ এর আওতায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং ভোক্তাপর্যায়ে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। 
এ ছাড়া পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ থাকার অভিযোগে একই মহাসড়কের রয়েল ফিলিং স্টেশনে অভিযানকালে ২৫ হাজার ৯০০ লিটার জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এর মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন ও ১৯ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। এ সময় পাম্পের মালিক ও ম্যানেজার মেশিনের সমস্যা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাঁকে অর্থদণ্ড করা হয়নি। পাম্পটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ লাইন ওপেন করে ভোক্তাদের সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে তেল প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের পাশে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর এলাকায় রয়েল ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে দেখা যায়, ভোক্তাদের শুধু ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে; পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ ছিল। মজুদ যাচাই করে দেখা যায়, পেট্রোল রয়েছে ৩ হাজার ৫০০ লিটার, অকটেন রয়েছে ৩ হাজার ৪০০ লিটার এবং ডিজেল রয়েছে ১৯ হাজার লিটার।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ