খুলনা | রবিবার | ২৯ মার্চ ২০২৬ | ১৪ চৈত্র ১৪৩২

যশোরে খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অমিত

জিয়াউর রহমানের নাম আসবে বলেই বিগত সরকার খাল খনন করেনি

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর |
০২:০১ এ.এম | ২৯ মার্চ ২০২৬


রাজনীতির সংকীর্ণতার কারণেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি থেকে দেশের মানুষ বঞ্চিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, খাল খনন করলে জিয়াউর রহমানের নাম সামনে চলে আসবে, তাই বিগত সরকার এর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
তিনি শনিবার যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের বুরুলি স্কুল এ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুরুলি খালের পুনঃখনন কাজের  উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।
কপোতাক্ষ নদ সংলগ্ন এলাকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতার শিকার। এই সংকট থেকে মুক্তি দিতে ‘কপোতাক্ষ নদ ও তৎসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় বুরুলি খালের তিন কিলোমিটার খনন কাজ শুরু হয়েছে। সকাল ১০টায় এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। কাজ উদ্বোধন শেষে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারেক রহমানের সরকার মানুষের দুঃখ-কষ্টের সমব্যথী। এ কারণেই সরকার এ অঞ্চলের মানুষের সমস্যার সমাধান করতে চায়। বিগত সরকার উন্নয়নের নামে পকেট ভারী না করলে ভবদহের সমস্যার সমাধান এতদিনে হয়ে যেত।’
বর্ষার আগেই বাঁধ অপসারণ ও স্লুইসগেট সচল করার ওপর জোর দিয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে করে গত বছরের জলাবদ্ধতার কষ্ট অন্তত এবার ৫০ শতরুশ লাঘব করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী পরিচালিত এই খনন কাজে তরুণ সমাজকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে যুক্ত হওয়ার আহŸান জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ভবদহে জলাবদ্ধতায় নিমজ্জিত মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিরসনের প্রতীক। আমরা এসেছি আশার আলো জ¦ালাতে, আমরা এই বার্তা দিতে এসেছি তারেক রহমানের সরকার এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের সাথে সমব্যথী। এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-কষ্টের স্থায়ী সমাধানের সূত্র খুঁজে বের করতে চাই। তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলো উন্নয়নের নাম করে নিজেদের পকেট ভারী করেছে। ভবদহ এলাকার মূল নিষ্কাশন নদীসহ টেকানদী, শ্রী, হরিয়ন, খরিয়ান, আপারভাদ্রা বিভিন্ন খাল (৮১.০৫ কিলোমিটার) পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। একই সাথে ২১টি খালের খানন কাজ চলমান রয়েছে। পানি নিষ্কাশনে অবকাঠামোর ডিপ মেরামত বা প্রতিস্থাপন করে অবকাঠামো সচল করা হচ্ছে। একই সাথে আগামী বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে ভবদহে ২১টি রেগুলেটার, ১৭টি কপাট খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. সৈয়দ সাবেরুল হক খান সাবু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ দেলোয়ার হোসেন খান, জলাবদ্ধতা নিরসণের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল মামুনুর রশীদ, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন আজাদ, কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোঃ জুলমত আলী ও সরুবাদিক এম এ হালিম বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন যশোর পানি উন্নয়ন বার্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: জাহিদ হাসান টুকুসহ স্থানীয় জনধারণ উপস্থিত ছিলেন। 
উল্লেখ্য, সাড়ে নয় কিলোমিটার খাল খননে ব্যয় হবে এক কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত এই খনন কাজ শুরু হওয়ায় আশার আলো দেখছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, এবার হয়তো সত্যিই পানিবন্দি জীবন থেকে মুক্তি মিলবে তাদের।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ