খুলনা | সোমবার | ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২

ক্ষতিগ্রস্থ ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহয়তা প্রদান

চিতলমারীতে বিশ্বাস ও শেখ বংশের সংঘর্ষ : হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা

এস এস শোহান ও এস এস সাগর, বাগেরহাট |
০২:৪৪ পি.এম | ২৯ মার্চ ২০২৬


বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের দুই বংশের সংঘর্ষ, ভাংচুর, বসতবাড়ি লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০ পরিবারকে খাদ্য সহয়তা প্রদান করা হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সহয়তা প্রদান করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ক্ষতিগ্রস্থদের হাতে এ খাদ্য সহয়তা তুলে দেন। বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খানসহ উপজেলা জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ পৃথক ভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামী দিয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার তিন দিন পরও এলাকাজুড়ে আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। পুরুষ শূন্য দুই বংশের বেশিরভাগ পরিবার। এখনও খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোর নারী-শিশুসহ বয়স্করা।

জানাযায়, মধুমতির নদীর চরের জমি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর জেরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামের এক যুবককে ফুলকুচি (লোহার সিকের তৈরি এক ধরণের মাছধরা অস্ত্র) দিয়ে আঘাত করে বিশ্বাস বংশের লোকেরা। পরে শেখ পরিবার ও বিশ্বাস পরিবারের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে বিশ্বাস বংশের লোকেরা শেখ পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে অন্তত ৪০টি বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিনত হয়। সংঘর্ষে শেখ বংশের সদস্য রাজিব শেখ নিহত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত শেখ পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪০-৫০ জনকে আসামী দিয়ে শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-১৮। এর আগে চিতলমারী থানা পুলিশ বাদী হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দেশী অস্ত্র নিয়ে মহড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্রæত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করে। মামলায় বিশ্বাস বংশের দুইজনকে গ্রেপ্তার ও রাম দা, টেটা, কাস্তেসহ বেশকিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ওই এলাকার নীরিহ মানুষেরা জানান, ঘটনার তিনদিন পরেও আতঙ্কে রয়েছেন চিংগড়ী ও মচন্দপুর এলাকার মানুষই। গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া বিশ্বাস ও শেখ পরিবারের বেশিরভাগ পুরুষ সদস্য। আর বিশ্বাস পরিবারের নারীরা রয়েছেন শেখ পরিবারের হামলার শঙ্কায়। শুক্রবার সকাল থেকে সংসারের মূল্যবান মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন এলাকার বাইরে।

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, রবিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০টি পরিবারের সদস্যদের শুকনো খাবার দেওয়ার হয়েছে। আর যাদের বাড়ি-ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা আবেদন করলে টিনসহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করা হবে।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মোঃ মিরন শেখ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ