খুলনা | সোমবার | ৩০ মার্চ ২০২৬ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২

শ্যামনগরে খাবারে চেতনানাশক স্প্রে করে এক পরিবারের সর্বস্ব লুট

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
০৫:২৪ পি.এম | ২৯ মার্চ ২০২৬


সাতক্ষীরার শ্যামনগরে খাবারের সাথে চেতনানাশক মিশিয়ে বাড়ির সবাইকে অজ্ঞান করে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও ৪০ ভরি ওজনের স্বর্ণেরগহনাসহ এক কোটি ২৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৮ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের সোরা গ্রামের মৃত তারিক গাজীর ছেলে আরব আলী গাজীর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

চেতনানাশক  মিশানো খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়া আরব আলী গাজীর স্ত্রী শামসুন্নাহার (৬০) ও তার নাতি মারিয়ানা (১০) কে স্থানীয় সোয়ালিয়া ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আরব আলী গাজীর ছেলে মতিউর রহমান নান্টুর স্ত্রী অসুস্থ রুনা ও তাদের চার বছর বয়সের ছেলে সিফাত হোসেনকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মতিউর রহমান নান্টু জানান, জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান সংকটের কারণে গ্রাহকদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণের জন্য শনিবার রাতে আমি ও আমার পিতা আরব আলী গাজী শ্যামনগর উপজেলা সদরে অবস্থিত  আমাদের পেট্রোল পাম্পে ছিলাম। রমজাননগর ইউনিয়নের সোরা গ্রামের দোতলা বাড়ির নিচের তলায় রান্নাঘরে রাখা রাতের খাবারে জানালা দিয়ে স্প্রের মাধ্যমে চেতনা নাশক মিশিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। রাত ৯টার দিকে ওই খাবার খেয়ে আমার মা শামসুন্নাহার ও মারিয়ানা বাড়ির দোতালায় এবং আমার স্ত্রী রুনা ও ছেলে সিফাত  নিচের তলায় একটি রুমে ঘুমিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা রান্নাঘরের জানলার গ্রিল কেটে ঘরের ভিতরে ঢোকে। এ সময় তারা ঘরের উপর তলায় ও নিচের তালার আলমীরা ও লকার ভেঙে নগদ ৪০ লাখ টাকা ও ৪০ ভারি ওজনের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণের গহনাসহ প্রায় এক কোটি ২৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

তিনি আরো বলেন, রাত বারোটার দিকে বাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরের আলমিরার লক ভাঙ্গা ও সমস্ত জিনিসপত্র তছনছ করা। বাড়িতে সবাই ঘুমিয়ে অচেতন হয়ে পড়ে আছে। এ সময় দ্রæত মা ও মারিয়ানাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপেক্ষাকৃত কম অসুস্থ আমার স্ত্রীর রুনা ও ছেলে সিফাতকে বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালিদুর রহমান সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় বাড়ির মালিকের ছেলে মতিউর রহমান নান্টু বাদী হয়ে থানা একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনায়  তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয়  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ লুট হওয়া স্বর্ণ ও টাকা উদ্ধারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ